খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান একটি খসড়া প্রস্তাবের ‘সর্বশেষ অগ্রগতি’ পর্যালোচনা ও তা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে তেহরানে রাশিয়া ও চীনের প্রতিনিধিদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। ইরানের রাজধানী তেহরানে নিযুক্ত রুশ ও চীনা রাষ্ট্রদূতদের সাথে এই বিশেষ আলোচনা ও কূটনৈতিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি’ (আইএসএনএ) গরিবাবাদির একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাও এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের খবরটি বিশ্ব দরবারে প্রকাশ করেছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদির বিবৃতি অনুযায়ী, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তৈরি হওয়া খসড়া সমঝোতা স্মারক সম্পর্কিত সর্বশেষ সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে গভীর মতামত বিনিময় এবং বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে তিন দেশের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, ইরান, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারি অত্যন্ত সুদৃঢ়। এই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় তিন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে নানামুখী বিবৃতি দিয়েছেন। তবে এই চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি বা ধারাগুলো এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনা হয়নি বা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, গত মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষের বেইজিং সফরের পর এই চলমান আলোচনা ও শান্তি প্রক্রিয়াকে সব ধরনের সমর্থন করার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মস্কোর ক্রেমলিন প্রশাসন এই অঞ্চলের মার্কিন সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জামের অবস্থান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে সরবরাহ করে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক আশাবাদের বিপরীতে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও শীর্ষ মহলে কিছুটা ভিন্ন ও দৃঢ় অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। ইরানের সংসদের স্পিকার এবং দেশটির অন্যতম শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান তার অবস্থানে সম্পূর্ণ অটল ও দৃঢ় থাকবে।
ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই অঞ্চলের বেসামরিক সাধারণ নাগরিকদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালানোর জন্য সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, তেহরান কোনো অবস্থাতেই তার মূল অবস্থান থেকে বিচ্যুত হবে না। এক লিখিত বিবৃতিতে গালিবফ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, তারা নিরীহ ও নিরপরাধ শিশুদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে এবং এমন কোনো অপরাধ বা নিষ্ঠুরতা নেই যা থেকে তারা বিরত থেকেছে।
সংসদ স্পিকার গালিবফ তাঁর বিবৃতির শেষাংশে আরও যোগ করেন যে, বিগত ১২ দিনের যুদ্ধের বীর এবং নির্যাতিত শহীদদের মহান আত্মত্যাগ ও আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা কাজ করছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাঁরা তাঁদের প্রিয় মাতৃভূমি ইরানের গৌরব রক্ষা এবং চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে পাশে থাকবেন। বিশ্ব রাজনীতির এই উত্তাল পরিস্থিতিতে তেহরানের এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এবং মার্কিন-ইরান সম্ভাব্য চুক্তিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।