ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লার বিরুদ্ধে সমর্থকদের অস্ত্র তৈরির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ঘটলে তা তিনি দেখবেন—এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি উপজেলার উজিরপুর বাজারে অনুষ্ঠিত একটি স্থানীয় মিটিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লাকে বলতে শোনা যায়, ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব।’ তবে ভিডিওটির বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা তা সরাসরি অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, তিনি ওই ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সম্পাদনা করে বা খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান বলেন, সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বক্তব্যের মিল নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
এ সময় তিনি স্থানীয় একটি ঘটনাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁর দলের একজন ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যানটি রেখে দিয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার সুযোগ থাকলেও তিনি দলীয় লোকজন নিয়ে গিয়ে ভ্যানটি উদ্ধার করেননি। বরং পুলিশের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লার দাবি, এলাকায় যাতে কোনো ধরনের সংঘাত বা উত্তেজনা তৈরি না হয়, সে জন্য তিনি শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষায়, স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে বড় ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক রয়েছেন।
এদিকে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। চেয়ারম্যান সম্প্রতি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধির বক্তব্য ঘিরে এমন অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে অস্ত্র তৈরি বা হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে ভিডিওর পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
এখন পুলিশের পক্ষ থেকে ভিডিও ও অভিযোগটি কীভাবে যাচাই করা হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ভিডিওটি সম্পাদিত কি না, সম্পূর্ণ বক্তব্যে চেয়ারম্যান আসলে কী বলেছিলেন এবং ওই সভায় উপস্থিত অন্য ব্যক্তিরা ঘটনাটি কীভাবে দেখেছেন—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।


