খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫
দ্বিতীয় দফায় ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বদলে গেছে অনেক সমীকরণ। ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ হয়ে গেছে ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা। আর এতে হুমকির মুখে ন্যাটো। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর ভরসা না করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এজন্য রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির পর ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদানে অবদান রাখতে ইচ্ছুক ৩০টি ইউরোপীয় ও ন্যাটো সদস্য দেশের সামরিকপ্রধানরা মঙ্গলবার (১১ মার্চ) প্যারিসে বৈঠক করবেন। ফ্রান্সের সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রান্সআটলান্টিক জোটকে বাতিল করে মস্কোর সঙ্গে যখন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাশিয়া তার প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে আক্রমণ করার তিন বছরেরও বেশি সময় পর ইউরোপ এর প্রতিরক্ষা জোরদার করতে ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা থেকে মুক্তি পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প তার রুশ প্রতিপক্ষ ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করেছেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন। ফলে কিয়েভ ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার পক্ষে একটি সমঝোতা গ্রহণে ইউক্রেনকে বাধ্য করার চেষ্টা করতে পারেন। ট্রাম্প কিয়েভের সঙ্গে সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বণ্টনও স্থগিত করেছেন।
প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ভাষণ দেবেন। তিনি বলেছেন, ন্যাটো সামরিক কমান্ডের সঙ্গে কঠোর সমন্বয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মাখোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউক্রেনে একটি চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য তথাকথিত ’ইচ্ছুকদের জোট’ গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে ইউরোপের পাঁচটি প্রধান সামরিক শক্তি—ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি ও পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা বুধবার ফ্রান্সের রাজধানীতে বৈঠক করবেন। ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একজন সহযোগী জানিয়েছেন, এই আলোচনা ইউরোপের প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন ও ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তার ওপর কেন্দ্রীভূত হবে।
তার অফিস আরও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতিতে সহায়তা করতে ইচ্ছুক দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আগামী শনিবার ভার্চুয়াল আলোচনার আয়োজন করবেন স্টারমার।
এর আগে গত সপ্তাহে ম্যাখোঁ বলেছিলেন, ইউক্রেনে যেকোনো ইউরোপীয় সেনা কেবল তখনই মোতায়েন করা হবে যখন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তিনি ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছে ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এই অঞ্চলে মনোযোগ কমে যাওয়ার পর, তুরস্ক, যাদের ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনা এবং একটি ব্ল্যাক সি উপকূল রয়েছে, ইউরোপের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বিমান ও নৌসেনার জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছেন।
সূত্র: এএফপি, ফ্রান্স ২৪
খবরওয়ালা/আরডি