খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে হামলা, শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে স্থানীয় বিএনপির ৬ জন নেতাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০ এপ্রিল, ২০২৬ (সোমবার) শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।
গত ১৯ এপ্রিল (রবিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য এক বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ওঠে যে, স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা উক্ত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন। এই ক্ষোভের জেরে তারা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে প্যান্ডেল ভাঙচুর করেন এবং সেখানে কর্তব্যরত শিক্ষকদের সাথে চরম অশালীন ও অপমানজনক আচরণ করেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। উক্ত অপ্রীতিকর ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওতে শিক্ষকদের প্রতি নেতাদের অপদস্থ করার দৃশ্য দেখে স্থানীয় জনমনে এবং নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নীতি-নির্ধারকদের দৃষ্টিগোচর হলে তারা তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব এবং সদস্য সচিব খাইরুল কবীর মন্ডল আজাদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, দলের আদর্শ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে অভিযুক্তদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
| বহিষ্কৃত নেতার নাম | পূর্বতন সাংগঠনিক পদবি (২নং গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপি) | শাস্তির ধরণ |
| মো. সারোয়ার আউয়াল | সাবেক সাধারণ সম্পাদক | আজীবন বহিষ্কার |
| আ. মান্নান মাস্টার | সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক | আজীবন বহিষ্কার |
| মো. হাসমত আলী হাসু | সাবেক যুগ্ম সম্পাদক | আজীবন বহিষ্কার |
| মো. আরমান আলী | সদস্য | আজীবন বহিষ্কার |
| মো. মাহবুব আলম | সদস্য | আজীবন বহিষ্কার |
| মো. রফিকুল ইসলাম | সদস্য | আজীবন বহিষ্কার |
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার দলীয় আদর্শ, সংহতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আপসহীন। বিদ্যালয়ের মতো একটি পবিত্র স্থানে শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ দলের লক্ষ্য ও স্বার্থের পরিপন্থী। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই বহিষ্কারাদেশ ২০ এপ্রিল থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়েছে যে, যেকোনো প্রকার শৃঙ্খলাভঙ্গ বা সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে দল শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি অনুসরণ করবে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দ্রুত এই সাংগঠনিক ব্যবস্থার গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সুধী সমাজ আশা করছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও সচেতন থাকবে।