খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ওয়ার্ডবয়কে বকশিশ না দেওয়ায় অক্সিজেনের পানির সরবরাহ বন্ধের কারণে নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
শনিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে শিশুটি স্বাভাবিক আচরণ করছিল এবং খেলা করছিল। একপর্যায়ে অক্সিজেনের পানি শেষ হয়ে গেলে নবজাতকের বাবা বেলাল ওয়ার্ডবয়কে নতুন পানি দিতে বলেন। অভিযোগ উঠেছে, বকশিশ না দেওয়ায় দায়িত্বে থাকা আয়া অক্সিজেনের পানি সরবরাহ বন্ধ রাখেন।
ওই নবজাতকের বাবা কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালি ইউনিয়নের জারুল বুনিয়া এলাকার বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের আয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চকরিয়া থেকে খুবই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় চমেক হাসপাতালে পাঠানো ওই নবজাতক মায়ের পেটে থাকতে মল খেয়ে ফেলে; ফলে অক্সিজেন দিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৮ দিন আগে চকরিয়ার জমজম হাসপাতালে ওই নবজাতকের জন্ম হয়। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় সেখান থেকে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়। গত ৯ মার্চ নবজাতককে চমেক হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৩০ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়। তার পর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিল শিশুটি।
গতকাল শনিবার (১৫মার্চ) সকাল ১০টার দিকে শিশুটি স্বাভাবিক আচরণ করছিল এবং খেলা করছিল। একপর্যায়ে অক্সিজেনের পানি শেষ হয়ে গেলে নবজাতকের বাবা বেলাল ওয়ার্ডবয়কে নতুন পানি দিতে বলেন। অভিযোগ উঠেছে, বকশিশ না দেওয়ায় দায়িত্বে থাকা আয়া অক্সিজেনের পানি সরবরাহ বন্ধ রাখেন।
এরপর শিশুটির মা-বাবাকে ওয়ার্ড থেকে বের করে দিয়ে পরিচ্ছন্নতার কথা বলে প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় বাইরে। পরে যখন তারা প্রবেশের অনুমতি পান, তখন দেখেন শিশুটি মারা গেছে।
শিশুটির বাবা বেলাল উদ্দিনের অভিযোগ, ‘হাসপাতালের নার্স ও ওয়ার্ডবয়রা বকশিশ ছাড়া এক কদম নড়ে না। প্রতিবার অক্সিজেন লাগানোর জন্য ২০০ টাকা করে চাওয়া হয়; কিন্তু আজ টাকা না দেওয়ায় তার সন্তানের জীবন চলে গেল। আমরা গরিব মানুষ। দিনমজুরি করে চলি। গরিব বলেই এখানে আসছি, প্রতিবার ২০০ টাকা কই পাবো?’
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, বিভাগীয় প্রধানকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ওয়ার্ডের আয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনা জানার পরই আমি খোঁজ নিয়েছি, অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল অবস্থায় চকরিয়া থেকে এখানে পাঠানো হয়েছে। বাচ্চা মায়ের গর্বে থাকতেই মল খেয়ে ফেলেছিল। তার পরও আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।
খবরওয়ালা/এমইউ