খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
বাংলাদেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালু করতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেল ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। এই অনুমোদনের মাধ্যমে দেশের দুর্গম ও ইন্টারনেট-সংযোগহীন এলাকাগুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছানোর নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো।
রবিবার (৬ এপ্রিল) ঢাকার ইস্কাটনে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২৯ মার্চ আমরা স্টারলিংককে বাংলাদেশে ব্যবসার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছি। ৯০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরুর প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ আরও জানান, ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নন-জিওস্টেশনারি অরবিট (এনজিএসও) লাইসেন্সের জন্য স্টারলিংক একই দিনে আবেদন করার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই লাইসেন্স প্রদান করা হবে, যা তাদের কার্যক্রম শুরুতে আর কোনো বাধা রাখবে না।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আগামী ৯ এপ্রিল স্টারলিংকের ইন্টারনেট–সেবা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ পাবেন অংশগ্রহণকারীরা। এই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সম্মেলনের লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে। এটি হবে দেশের ইতিহাসে স্টারলিংকের প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যবহার।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক–এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন আলাপ হয়, যেখানে বাংলাদেশের ডিজিটাল কানেক্টিভিটি উন্নয়নে স্টারলিংকের সম্ভাব্য অবদান নিয়ে আলোচনা হয়। এই আলোচনার পর থেকেই সরকারিভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্টারলিংকের প্রবেশ বাংলাদেশের ডিজিটাল বিভাজন কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল, চরাঞ্চল ও নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা প্রত্যন্ত এলাকায় ফাইবার অপটিক ছাড়াই উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এ ছাড়া, দুর্যোগের সময় বিদ্যমান নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্টারলিংক স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে, গ্রামীণ তরুণরা ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা ও শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন, যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করবে।
স্টারলিংকের বাংলাদেশে আগমন দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামোয় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন প্রয়োজন, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাঠপর্যায়ে এই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, যাতে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত প্রান্তেও প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে পড়ে।
স্টারলিংক কী?
স্টারলিংক হচ্ছে স্পেসএক্স পরিচালিত একটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প, যা পৃথিবীর লো-আর্থ অরবিটে (এলইও) হাজার হাজার ছোট স্যাটেলাইট ব্যবহার করে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করে। বর্তমানে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে এই সেবা চালু রয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি