খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫
২০ মিনিট দেরিতে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের হাতে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ ঘটনায় তোপের মুখে পড়েছেন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষক।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) এসএসসির বাংলা পরীক্ষা শেষে অভিভাবকেরা শিক্ষকদের ঘিরে ধরে নানা প্রশ্ন করছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ইলিয়াস মোল্লা। তিনি মতিঝিল কলোনি মতিঝিল কলোনি উচ্চ বিদ্যালযয়ে কর্মরত তবে পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালযয়ে।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩০০৩ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্রের লিখিত অংশের প্রশ্নপত্র ২০ মিনিট দেরিতে দেওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষার নির্ধারিত সময় পর খাতা কেড়ে নেওয়া হয়। এতে তারা লিখিত পরীক্ষা দিতে ২০ মিনিট কম সময় পেয়েছে। এ ঘটনায় তারা ইলিয়াস হোসেন নামে একজন শিক্ষককে দায়ী করছেন।
জামাল উদ্দিন নামে একজন অভিভাবক বলেন, ৩০০৩ নম্বর কক্ষে সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। এটি ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র। প্রথমে তাদের এমসিকিউ অংশের পরীক্ষা হয়। এরপর তাদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে কেঁদে ফেলেছে। ও বলছে, বাবা আমাদের এমসিকিউ পরীক্ষার উত্তরপত্র জমা নেওয়ার পর দুই স্কুলের উত্তরপত্র গুলিয়ে ফেলেছেন শিক্ষকরা। সেগুলো আলাদা করতে গিয়ে ২০ মিনিট দেরিতে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দিয়েছে। ও সব লিখতে পারেনি।’
আমিরুল ইসলাম নামে আরেক অভিভাবক বলেন, ‘৪২ জন শিক্ষার্থী ওই কক্ষে ছিল। সবাই কি মিথ্যা বলছে? অথচ অভিযুক্ত শিক্ষক বিষয়টি অস্বীকার করছেন। আমরা চাই, যে ৪২ জন দেরিতে প্রশ্নপত্র পেয়েছে, তাদের আবারও ২০ মিনিট পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।’
এদিকে, ঘটনাস্থলে হট্টগোল শুরু হলে পুলিশ অভিভাবকদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। এসময় অভিভাবকরা পুলিশের সঙ্গেও বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। কেন্দ্রে দায়িত্বরত এসআই নরোত্তম অভিভাবকদের বলেন, ‘প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সিসিটিভি দেখে কেন্দ্রসচিব বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’
তবে পুলিশ কর্মকর্তার কথায় আস্থা রাখতে পারছেন না অভিভাবকরা। তারা ইলিয়াস নামে ওই শিক্ষকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার এবং কেন্দ্রসচিবকে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। দুপুর ২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময়েও সেখানে অভিভাবকরা অবস্থান করছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে কেন্দ্রসচিব ও অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, কিছুক্ষণ পর পুরো বিষয়টি জেনে তারা এ নিয়ে ব্যাখ্যা দেবেন।
জানতে চাইলে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। কেউ অভিযোগ করলে বা কেন্দ্রসচিব লিখিতভাবে জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এসআর