খবরওয়ালা স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে চৈত্র ১৪৩১ | ১২ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
সবকিছু ঠিক থাকলে ২৪ মার্চ সকালটা অন্য রকম হতো। শাইনপুকুরের বিপক্ষে মাঠে ব্যাট হাতে ঝলক দেখাতেন মোহামেডানের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কিন্তু সেদিন সকালে ঘটে গেল অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা—ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক, যা তামিমের জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে দেয়।
বিকেএসপিতে ম্যাচের দিন সকালে হঠাৎ করে তামিম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাভারের কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক ছিল যে, ২২ মিনিট ধরে সিপিআর এবং তিনটি ডিসি শক দিতে হয় তাকে। পরে এনজিওগ্রামে ধরা পড়ে, তার হার্টের একটি আর্টারিতে শতভাগ ব্লক ছিল। জরুরি ভিত্তিতে সেই ব্লক সরিয়ে রিং পরানো হয়।
পরবর্তী চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানান্তর করা হয় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর, ২৮ মার্চ বাসায় ফেরেন তামিম। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে ৭ এপ্রিল তিনি যান সিঙ্গাপুরে, ফ্যারার পার্ক হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. মরিস চু-এর অধীনে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
অবশেষে চিকিৎসা শেষে ১২ এপ্রিল, শনিবার সকালে দেশে ফিরেছেন তামিম ইকবাল। আর ফিরেই যেন প্রমাণ করে দিলেন—তিনি শুধু মাঠের যোদ্ধা নন, জীবনযুদ্ধেরও এক সাহসী সৈনিক।
দেশে ফেরার ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি, এমন সময় দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার আগেই, বিকেল পৌনে ৩টায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এসে হাজির হন তামিম। হোম অব ক্রিকেটের মূল গেটে গাড়ি থেকে নেমেই সোজা চলে যান মোহামেডানের ড্রেসিংরুমে। তখন তার দল ফিল্ডিংয়ে ব্যস্ত। তিনি কিছুক্ষণ সময় কাটান কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ এবং রিজার্ভ খেলোয়াড়দের সঙ্গে।
পরে গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে গিয়ে মোহামেডান ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও বিসিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দেশের সাবেক অধিনায়ক। সবার মুখেই তখন স্বস্তি, উচ্ছ্বাস আর কৃতজ্ঞতার ছায়া—তামিম সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন, আবার মাঠে ফিরেছেন।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান ও আবাহনীর ম্যাচে এমন এক মুহূর্তে তার উপস্থিতি যেন পুরো দলের মনোবল বাড়িয়ে দেয়। যদিও এখনও পুরোপুরি মাঠে নামার মতো প্রস্তুত নন, তবে তামিমের এমন সাহসী প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প।
খবরওয়ালা/এমবি