মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

কলাম

আমাদের নৈতিকতা সম্পন্ন ক্ষমতাধর ব্যক্তি প্রয়োজন

জি এম কিবরিয়া

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

আমাদের নৈতিকতা সম্পন্ন ক্ষমতাধর ব্যক্তি প্রয়োজন
জি এম কিবরিয়া। ছবি: খবরওয়ালা

বাংলাদেশ ভাল থাকুক, কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হোক; আমরা যেন ভাল থাকি, আমার সফলতা, সন্তানের সফলতা এরূপ হাজারো চাওয়া সকলের মনে; কিন্তু দুঃখ-কষ্ট, ঠক-প্রতারণা সেই স্বপ্নের পথ বা চাওয়াকে মাড়িয়ে বিষাদময় করে তুলছে জীবন। অপরদিকে দুষ্টের আদলে সাজিয়ে তোলা সমাজ ব্যবস্থায় খাপ খাওয়াতে বা টিকে থাকতে না পেরে চিড়া চ্যাপ্টা হয়ে আমরা ত্যাক্ত-বিরক্ত!

একে ভাগ্য নাকি দুর্ভাগ্য বলবেন? যেভাবেই বিশ্লেষণ করেন না কেন, জীবন কিন্তু থেমে নেই! জীবন এরূপ প্রতিকূল অবস্থায় সহজেই পরাভূত হয়। এক পর্যায়ে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে রাস্তায় শুয়ে পড়ি। আর সেই সুযোগে ঠক, প্রতারক, দুষ্টের দল ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে এসে আমাদের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলে। সেই অপশক্তি ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভীত ও তটষ্ট থাকে। সে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে। যাকে স্বৈরাচার বলা হয়। অতঃপর একদা ধৈর্যের সীমা ভেঙে গেলে, প্রবল প্রতিরোধে গর্জে উঠে দুর্বল। সেই প্রতিরোধের বানে ভেসে যায় স্বৈরাচার। পালিয়ে আত্মরক্ষা করে নিজেকে। দুর্বল তার স্বভাবজাত ভূমিকায় আবার ঝিমিয়ে পড়ে, আবার জন্ম হয় নতুন স্বৈরাচারের!

কেন এই চক্র?

১। ক্ষমতা বা ক্ষমতার প্রকৃতি কি? 

২। দুষ্ট মানুষ কিভাবে এত ক্ষমতার অধিকারী হন?                                                                                                                                                                                                

৩। স্বৈরাচারের পতন কেন অবশ্যম্ভাবী? 

৪। আপনি কিভাবে সুপারম্যান হবেন?

এরূপ নানাবিধ প্রশ্নের উত্তর প্রখ্যাত জার্মান দার্শনিক ফ্রিডরিখ নিটশে (Friedrich Nietzsche) এর বিখ্যাত “Beyond Good and Evil” গ্রন্থ অবলম্বনে আমরা আজ খোঁজতে চেষ্টা করবো।

চিরকাল মানুষ সফল হতে বা ক্ষমতার অধিকার হতে চেয়েছে। এটা তার জন্মগত প্রকৃতি। হোক তা নীতি নৈতিকতা মেনে কিংবা ঠকবাজি, প্রতারণা, নৃশংসতার আশ্রয় নিয়ে, যেভাবেই হোক ক্ষমতা তার চায়!

পশু প্রবৃত্তি মানব সমাজে আদিতেও ছিল, আজও দৃশ্যমান। যেমন: মার বা মর; জোর যার মুল্লুক তার। এখানে প্রশ্ন হলো, আধুনিক এই সভ্য সমাজেও ক্ষমতার এত লড়াই কেন? কেন এত যুদ্ধ বিগ্রহ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের বুঝতে হবে ক্ষমতার প্রকৃতি কি?

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রয়োগ হচ্ছে। কি ভালবাসা, কি শাসন, কি যুদ্ধ! সব ক্ষেত্রেই ক্ষমতা আর ক্ষমতার প্রয়োগ চলছে দ্যাদার্ছে, যদিও এসব কিছু আমরা জানিনা কিংবা মানিনা! এই ক্ষমতা এমনি এমনি আসে না। লড়াই করে ক্ষমতা অর্জন করতে হয় এবং সেই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে লড়াই অব্যাহত রাখতে হয়। এই লড়াই পৃথিবীময় দৃশ্যমান। পরাশক্তি বা দুর্বল দেশ এই দুর্বল ও সবলেরই বৃহৎ লড়াই বা সংস্করণ।

ধরুন, দুজনের মধ্যে লড়াই হচ্ছে, এর মধ্যে বিজয়ী বেঁচে থাকবে আর পরাজিত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। একজনের আছে প্রচণ্ড মানসিক শক্তি, সে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করে না; অপ-কৌশল কিংবা ছল-চাতুরি, মিথ্যা কিংবা প্রতারণা; যেভাবেই হোক তাকে লড়াইয়ে জিততে হবে! বিপরীতে একজন দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভোগেন, অপরের মতকে প্রাধান্য দেন, সবাইকে সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করেন। তিনি তীব্র নৈতিকতা সম্পন্ন ও সংবেদনশীল, তাকে কি দুর্বল চিত্তের অধিকারী সংজ্ঞায়িত করবেন না? অবশ্যই। এখানে প্রশ্ন হলো, লড়াইয়ে কে জিতবে? নিশ্চয়ই প্রথমজন, যিনি নিষ্ঠুর প্রকৃতির।

নিটশে বলেন, পৃথিবীর সকল মানুষের মধ্যে দুটি প্রকৃতি বা ধারা আছে:

১। মনিব বা মাস্টার প্রকৃতি;
২। দাস বা ক্রীতদাস প্রকৃতি।

মনিব বা রাজা প্রকৃতির মানুষ ক্ষমতার অধিকারী, শক্তিশালী, সৃজনশীল এবং মানসিক ভাবে দৃঢ়চিত্তের হয়ে থাকে। সে সমাজকে পরিবর্তন করে নিজের মত করে গড়ে তুলে। অপরদিকে, দাস প্রকৃতির মানুষ দুর্বল, নৈতিকতা সম্পন্ন, ভীত ও দ্বিধাগ্রস্ত। সে সবল কর্তৃক পরিবর্তিত সমাজে খাপ খাওয়াতে চেষ্টা করে।

দাস প্রকৃতির মানুষ নেরিটিভ দাড় করে এভাবে: “এই পৃথিবী আমার জন্য নয়, কোনো-রকম ঘাপটি মেরে থাক। পরকালে নিশ্চয়ই পুরস্কার পাব।”

আর মনিব বা রাজা প্রকৃতি বলে, “এই পৃথিবী আমার, আমার মত তাকে সাজিয়ে নেব, আইন কানুন নিয়ম সব আমার ইচ্ছানুযায়ী হবে।”

এখানে মজার বিষয় হলো, দাস প্রকৃতির মানুষের দুর্বলতার সুযোগটি ঠক বা প্রতারক গ্রহণ করে। সে হিংস্র আচরণ করে, ভয়ে সবাই রাস্তায় শুয়ে পড়ে। সে তখন সবাইকে দু’পায়ে মাড়িয়ে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করে। সিংহ যেমন শিকার ধরতে কারোর অনুমতি নেয় না, তেমনি সে ক্ষমতার অধিকারী হতে বা সমাজ টিকে থাকতে জোর যার মুল্লুক তার নীতি গ্রহণ করে।

ক্ষমতার প্রকৃতি হচ্ছে, ক্ষমতা অর্জন করতে হয়। এমনি এমনি বা কারোর দয়ায় ক্ষমতা আসে না বা সমাজে টিকে থাকা যায় না। তাইতো, স্কুলে যে নীতিশ্রাস্ত্র আমরা শিখি যেমন: “সকলের মতকে প্রাধান্য দেবে, কেউ যেন অভিযোগ না করে, লেখা পড়া করে যে গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে” ইত্যাদি; বাস্তবে আমরা ভিন্ন চিত্র বা ভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই।

এরূপ পরিস্থিতিতে করণীয় কি?

আমরা কি সফল হওয়ার জন্য সকল নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নির্দয় বা নিষ্ঠুর হয়ে যাবো? নাকি ক্ষমতা সাথে নীতি-নৈতিকতার একটি মেলবন্ধন তৈরি করতে সক্ষম হবো?

মি: নিটশে তার বইয়ে এই প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, মানব সমাজ নীতি-নৈতিকতা মেনে পরিচালিত হয় না, এখানে টিকে থাকার জন্য মানুষ এখানে সব কিছু করতে পারে। এই বাস্তবতা না মানলে, আমাদেরকে সবকিছুর বিরুদ্ধে কেবল অভিযোগ আর অভিযোগ করে যেতে হবে। তবে নিটশে মনে করেন, নৈতিকতা ও ক্ষমতা সবসময় সাংঘর্ষিক নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, নৈতিকতাবিহীন ক্ষমতা অত্যন্ত মারাত্মক বা ভয়ঙ্কর। এই নৈতিকতা বিবর্জিত ক্ষমতা হিংসা হানাহানি ছাড়া সমাজ পরিবর্তনে আর কোনো ভূমিকাই রাখতে পারে না।

তিনি এও মনে করেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধুমাত্র বিশুদ্ধ চিন্তা ভাবনাই যথেষ্ট নয়, এখানে খেলার নিয়ম জানাটা অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি খেলার নিয়ম বা প্রয়োগ না জানেন তবে আপনিও কোটি মানুষের মতো সমাজে কোণঠাসা হয়ে পড়বেন। অতঃপর দুষ্টের হাতে ক্ষমতা চলে যাবে।

দার্শনিক প্লেটের মতে, আপনি যদি রাজনৈতিক বিমুখ হন, তবে আপনাকে দুষ্ট লোকের শাসন মেনে নিতেই হবে।

আলোচ্য গ্রন্থে নিটশে নৈতিকতার সাথে ক্ষমতাকে একীভূত করতে পরামর্শ দিয়ে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দেন যে, আপনি যদি সৎ, পরিশ্রমী, শক্তিশালী ও কৌশলী হন, তবে ক্ষমতা আপনার হবেই। কেন কৌশলী হবেন?   মানুষের কল্যাণে আপনাকে কৌশলী হতে হবে। তিনি মনে করেন, যেখানে জীবন হবে পরিকল্পিত, সৎ ও পরিশ্রম নির্ভর; যেখানে মানুষ হবে দয়াশীল। এই দয়া কোন দৈন্য, দুর্বলতা বা হীনম্মন্যতা থেকে উৎপন্ন হবে না, উৎপন্ন হবে উদারতা বা মমতাবোধ থেকে।

আপনি যদি মনে করেন, পৃথিবীতে এমনি এমনি ন্যায় বা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে, তা আপনি বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাকে অবশ্যই ক্ষমতায় যেতে হবে। এখানে নিটশে এক বৈপ্লবিক চিন্তার প্রয়োগ করেছেন। সুপারম্যান। হ্যাঁ, তিনি কোন অতি মানব বা মহামানবের কথা বলেছেন, যিনি স্বাভাবিক নীতি-নৈতিকতা, কল্পনা ও সকল সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন। নিটশের মতে, সুপারম্যান নিছক কোন ক্ষমতাধর ও সম্পদশালী ব্যক্তি নন, বরং সেই হচ্ছে সুপারম্যান, যিনি শত্রুর খুঁজে বাহির পানে না তাকিয়ে নিজের ভিতরে শত্রুর তালাশ করেন এবং তাকে পরাভূত করেন। নিটশের মতে, জগতের মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে ‘দুর্বলতা ও ভয়’। এই ‘দুর্বলতা’ অপরের মতামতেক প্রাধান্য দিতে এবং ‘ভয়’ সমাজিক পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করতে আমাদের বাধ্য করে। এহেন পরিস্থিতিতে, দুর্বল মানুষ সমাজ পরিবর্তন বা সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য দ্যৈব্যের সাহায্য কামনা করে। শুধু তাই নয়, প্রবল দুঃখ কষ্টের মাঝেও আসমানের সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। আর এই হতাশাগ্রস্ত, দ্বিধা ও দৈন্য মানবকুল দুষ্টকে ক্ষমতা গ্রহণের মওকা দিয়ে উৎসাহিত করে থাকে। খারাপ বা ঠক জানে যে, সে মেধা বা যোগ্যতা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তাই সে অন্যায়, প্রতারণা বা নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করে। মজার বিষয় হলো, তার ভিতরেও ‘ভয় ও আতঙ্ক’ বিরাজমান থাকে। কিসের ভয়? ক্ষমতা হারানোর ভয়! ক্ষমতা হারানোর ভয় বা তার ভয় যেন প্রকাশিত না হয়, সেজন্য সে আরও নিষ্ঠুর হয়ে উঠে। প্রতারণা বা সম্পদ কুক্ষিগত করার চেষ্টা সে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এভাবে যে বিষবৃক্ষের জন্ম হয়, তার নাম স্বৈরাচার। নিটশের মতে, স্বৈরাচার ক্ষমতার অধিকারী হয় না বরং সে ক্ষমতার গোলামে পরিণত হয়। সে নিজেকে নিজে পরিচালনা করে না, চামচা দ্বারা পরিচালিত হয়। সর্বদা চামচা ব্যাষ্টিত থাকে রলে সে দুর্বলের আত্মচিৎকার কখনও শুনতে পায় না। ফলে শেষ রক্ষা পেতে আত্মচিৎকারের মাধ্যমে একত্রিত হয়। দুর্বলের প্রচণ্ড ঢেউ তার ক্ষমতার মসনদ ভাসিয়ে দেয় এবং সে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

অপরদিকে, সুপারম্যান ক্ষমতাকে যোগ্যতা, সাহসীকতাকে নৈতিকতা এবং দৃঢ়তাকে দয়ার সঙ্গে সংমিশ্রণ করে সামনে এগিয়ে চলে। তিনি ক্ষমতা সৃষ্টি করেন এবং তা জনকল্যাণে প্রয়োগ করেন। 

মোদ্দা কথা হলো, দুষ্ট বা স্বৈরাচার ক্ষমতার চূড়ায় উঠে ঠিকই, কিন্তু তাদের পতন অবশ্যম্ভাবী। নিটশে বলেন, দ্রুত ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্ষমতায় টিকে থাকা। সুপারম্যান অভ্যন্তরীণ ভাবেই ক্ষমতাবান। তিনি ক্ষমতা দখল করেন না, ক্ষমতা তৈরি করেন। সুপারম্যানের অন্তরে ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত থাকে। তিনি কখনও অপরের অন্তরে দখলদারিত্ব করেন না বরং নিজের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রশ্ন হলো, আমরা কিভাবে সুপারম্যান হতে পারবো?

নিটশে তার গ্রন্থে সুপারম্যান হতে নিম্নরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেছেন:

১। সমাজে ন্যায় নীতি এমনি এমনি প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে, এই আশায় না থেকে আপনাকে অবশ্যই বাস্তবিক হতে হবে। বাস্তব জগতে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করা বোকামি, এখানে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে;

২। অভিযোগের পরিবর্তে খেলার কৌশলগুলো আয়ত্তে আনতে হবে। যিনি খেলার কৌশল জানেন তিনি নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতা ছাড়াও জিততে পারেন, সফল হন। একজন সুপারম্যান নিজ ও সমাজ উন্নয়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম, চেষ্টা ও সাধনা করে যান অবিরত। তিনি সবার আগে নিজের দুর্বলতা ও দোষত্রুটির মোকাবিলা করেন;

৩। আপনাকে কৌশলী হতে হবে। নিটশে বলেন, সবার আগে মানুষকে চিনতে শিখুন; তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা এবং তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে তার আগাম ধারণা নিন। এটাই সুপারম্যানের জাদুমন্ত্র;

৪। কোনোভাবেই মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নেবেন না বরং মিথ্যাবাদী ও প্রতারক কিভাবে প্রতারণার আশ্রয় নেয়, সে বিদ্যা রপ্ত করুন এবং তাদের প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকুন;

৫। সকল সমস্যার জন্য বহিঃশত্রুকে দায়ী না করে অভ্যন্তরীণ শত্রুকে খুঁজে বের করুন এবং এদের মোকাবিলা করুন। অর্থাৎ ভয় ও দুর্বলতাকে প্রতিহত করতে হবে সর্বাগ্রে। কারণ আমাদের মন ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করে বসে আছে। সে যে কোন পরিবর্তনকে ভয় পায়, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করে।

৬। দায়িত্বজ্ঞান। সুপারম্যান তার কৃতকর্মের দায় সবসময় নিজেই বহন করে। অতীত নিয়ে তার কোন অনুসূচনা নেই, তিনি ভবিষ্যতের স্রষ্টা। তিনি গ্রহীতা নন বরং দাতা হতেই পছন্দ করেন।

সর্বশেষে নিটশের একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে আজকের আলোচনা শেষ করবো। উক্তিটি ঘুমন্ত মানুষ তথা সমাজকে জাগিয়ে তুলতে টনিক হিসাবে কাজ করবে। উক্তিটি হলো, “যদি তুমি মনে কর কেউ তোমার জীবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তবে তুমি ঠিকই বলেছো; আর সেই ব্যক্তি তুমি নিজেই।”

প্রকৃত শক্তিমত্তা হচ্ছে, আপনি আপনার সকল কৃতকর্মের দায়ভার সততার সাথে গ্রহণ করুন। নিজের দোষ অপরের ঘাড়ে কখনও চাপাবেন না।

আজ আমাদের নৈতিকতা সম্পন্ন ক্ষমতাধর একজন ব্যক্তির খুবই প্রয়োজন। সৎ কিন্তু দুর্বল, ক্ষমতাধর কিন্তু প্রতারক, সুদর্শন কিন্তু নিষ্ঠুর, ভাল মানুষ কিন্তু জ্ঞানহীন; এরূপ চায় না!

লেখক: জি এম কিবরিয়া (ক্লিন এন্ড গ্রিন ফাউন্ডেশন ও গরিব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা)
খবরওয়ালা/এসআর