খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
বাংলাদেশে কর ফাঁকির কারণে ২০২৩ সালে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২ লাখ ২৬ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। এই তথ্য জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সোমবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে করপোরেট আয়কর সংস্কার সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে সংস্থাটি।
সিপিডির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই ক্ষতির প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ১ লাখ ১৩ হাজার ১১৮ কোটি টাকা করপোরেট কর ফাঁকির কারণে হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কর ফাঁকির পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০১২ সালে যেখানে কর ফাঁকির অঙ্ক ছিল ৯৬ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা, ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৩ কোটিতে।
গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী তামিম আহমেদ। সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের দিকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কর ফাঁকি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও কর ফাঁকি ও কর পরিহারের ঝুঁকিও তাতে বাড়বে।’
গবেষণায় কর ফাঁকির পেছনে যেসব কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে উচ্চ করহার, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো, জটিল আইনি প্রক্রিয়া ও কর ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি।
সিপিডি মনে করে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং নীতিগত সংস্কার।
খন্দকার মোয়াজ্জেম আরও বলেন, ‘শুধু কর ফাঁকিই নয়, সরকারের রাজস্ব হারানোর আরেকটি বড় উৎস হচ্ছে বিভিন্ন খাতে কর ছাড় ও প্রণোদনা। অনেক সময় বিনিয়োগের নামে দেওয়া এই ছাড়গুলো কার্যকর বিনিয়োগে রূপ নেয় না। বরং তা রাজস্ব ফাঁকির আরেকটি পথ হয়ে দাঁড়ায়।’
সিপিডির সুপারিশ অনুযায়ী, কর নীতির পুনর্বিন্যাস, জবাবদিহিমূলক রাজস্ব প্রশাসন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর আদায় পদ্ধতি চালু করলেই কর ফাঁকি কমানো সম্ভব।
খবরওয়ালা/আরডি