খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর বিশ্ববাসীকে প্রথম খবরটি জানান যিনি, তিনি হলেন আইরিশ-আমেরিকান কার্ডিনাল কেভিন ফ্যারেল। পোপের প্রয়াণের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্যামেরলেনগো’ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন পোপ নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনিই হবেন ভ্যাটিকানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান।
ক্যামেরলেনগো হিসেবে দায়িত্ব
২০১৯ সালে পোপ ফ্রান্সিস তাকে ক্যামেরলেনগো হিসেবে মনোনয়ন দেন। এই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি পোপের মৃত্যু বা পদত্যাগের পরবর্তী সময়— ‘অ্যাপোস্টোলিকা সেডেস ভ্যাকান্স’—এ ভ্যাটিকানের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
কার্ডিনাল ফ্যারেল বর্তমানে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যু সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনিই পোপের মৃত্যুর সনদে স্বাক্ষর করবেন এবং মরদেহ কফিনে শায়িত করার প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকালে শোকযাত্রার মাধ্যমে পোপের মরদেহ ডোমাস সান্তা মার্তা চ্যাপেল থেকে সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা নেওয়া হবে, যার নেতৃত্বেও থাকবেন তিনিই।
পোপ হওয়ার সম্ভাবনা?
যদিও ক্যামেরলেনগো থেকে পোপ হওয়ার ঘটনা বিরল, তবে ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুইবার। ১৮৭৮ সালে গিওআচিনো পেচি (পোপ লিও ১৩) এবং ১৯৩৯ সালে ইউজেনিও পাচেলি (পোপ পায়াস ১২) ক্যামেরলেনগো থেকে পোপ নির্বাচিত হন।
জীবনের শুরু থেকে ভ্যাটিকানের শীর্ষে
১৯৪৭ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্ম নেওয়া কেভিন ফ্যারেল ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব সালামাঙ্কা ও রোমের পন্টিফিক্যাল গ্রেগরিয়ান ইউনিভার্সিটিতে। ধর্মযাজক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয় মেক্সিকোর ইউনিভার্সিটি অব মন্টেরেতে, এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের বেথেসডাতে দায়িত্ব পালন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় অঙ্গনে তার অবদান বিশাল। জীবনের তিন দশকের বেশি সময় তিনি বিভিন্ন গির্জায় কাজ করেন। ২০০৭ সালে তিনি ডালাসের বিশপ হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে ২০১৬ সালে পোপ ফ্রান্সিস তাকে ভ্যাটিকানের প্যাস্টোরাল মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন এবং কার্ডিনালের মর্যাদা দেন।
২০২৩ সালে তাকে ভ্যাটিকান সিটি স্টেটের সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট এবং কনফিডেনশিয়াল ম্যাটারস কমিশনের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ঐতিহাসিক মুহূর্তের মুখোমুখি
বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী কার্ডিনাল ফ্যারেল এমন এক সময় ভ্যাটিকানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পোপের মৃত্যুপরবর্তী দায়িত্ব ও পরবর্তী নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া দেখভাল করবেন তিনি। তার হাত ধরেই রোমান ক্যাথলিক চার্চ এক নতুন পোপের দিকে এগিয়ে যাবে।
সূত্র: বিবিসি
খবরওয়ালা/আরডি