অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের ব্যাপারীপাড়ায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের দাবিতে ছয় দিন ধরে ভাতিজার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন চাচি রুবিনা খাতুন (২৫)। এদিকে সেই সুযোগে প্রেমিক ভাতিজা আব্দুল আজিজ (২০) পালিয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
রুবিনা খাতুন দুই সন্তানের জননী এবং মাইদুল ইসলামের স্ত্রী। অন্যদিকে ভাতিজা আব্দুল আজিজ তার চাচাতো ভাই গণি মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, চাচি ও ভাতিজার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক দুই থেকে তিন বছর ধরে চলছে। একই এলাকায় বসবাসের সুযোগে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এর আগেও রুবিনা মোল্লাবাড়িতে গিয়েছিলেন, তবে তখন তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার বিয়ের দাবিতে তিনি অনশন শুরু করলে প্রেমিক আজিজ পালিয়ে যান। ঘটনার তৃতীয় দিনেই রুবিনাকে তালাক দেন তার স্বামী। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা ভাতিজার পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রুবিনা খাতুনকে বলতে শোনা যায়, প্রেমিক ভাতিজা নিজ হাতে তাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে তাকে নিজের বাড়িতে পাঠিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভিডিওতে তার অনড় অবস্থানও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
জানা গেছে, আজিজের বাড়ির সামনে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের ভিড়। সাংবাদিকরা পৌঁছালে আজিজের পরিবারের সদস্যরা গেট বন্ধ করে দেন। গণি মোল্লার আরেক ভাতিজা জানান, রুবিনা এখনো বাড়ির ভেতরে আছেন, তবে কাউকে প্রবেশ করতে বা কথা বলতে নিষেধ করেছেন তার বাবা।
একজন স্থানীয় বলেন, ‘মা কে আর চাচি কে, এখন তো সব এক হয়ে গেছে। এর বিচার হওয়া দরকার।’ অন্য একজন জানান, ‘মহিলাটি শনিবার থেকে ওই বাড়িতে আছেন। সময় নষ্ট করায় আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তা বন্ধ করেছি। সমাজ হিসেবে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’
ছাপড়হাটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আনছার আলী বলেন, ‘মেয়েটি জানিয়েছে, তাদের সম্পর্ক দুই-তিন বছর ধরে। শনিবার থেকে বাড়িতে অবস্থান করছেন, কিন্তু ভাতিজা পালিয়ে গেছেন। তিন দিনের মাথায় তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন।’
ছাপড়হাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কুমার গোস্বামী বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনও কিছু জানি না। কেউ আমাকে অবহিত করেননি, তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’
ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে, তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি