নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় আপত্তিকরভাবে ধর্মীয় বিধিবিধান, বিশেষ করে ইসলামী উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইনকে নারীর প্রতি বৈষম্যের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে; এই প্রস্তাবনা বাতিলের পাশাপাশি পুরো কমিশন বাতিলের দাবি জানিয়েছে ইসলামিক দলগুলো।
জামায়াতে ইসলামী
নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাতিলে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকালে নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাতিলে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘নারী অধিকার সংস্কারের নামে সম্প্রতি একটি রিপোর্ট জমা হয়েছে। সেই রিপোর্টের বেশ কিছু জায়গায় কোরআন ও সুন্নাহর সম্পূর্ণ খেলাপ কিছু সুপারিশ জমা হয়েছে। কিন্তু যাঁরা এই সুপারিশ পেশ করেছেন, তাঁরা এ দেশের সাড়ে ৯ কোটি মায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাঁরা যে জায়গায় সমাজকে নিতে চান, সেটা হতে দেওয়া হবে না। প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফিরলেই এটি বাতিলের জন্য আহ্বান জানানো হবে।’
খেলাফত মজলিস
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনকে ‘ধর্মবিদ্বেষী ও ইসলামবিরোধী’ আখ্যায়িত করে অবিলম্বে এর বাতিলের দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।
শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে খেলাফত মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, এই কমিশন গঠন করা হয়েছে কিছু উচ্ছিষ্ট নাস্তিক ও পশ্চিমা দালালদের দিয়ে, যাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ধর্মীয় ও পারিবারিক কাঠামোকে ধ্বংস করা।
তিনি বলেন, নারীর অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলে তারা আসলে ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অভিন্ন পারিবারিক আইন, বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকার এবং ভরণপোষণের ক্ষেত্রে সব ধর্মের নারীদের জন্য এক আইন চালুর প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এটা সরাসরি কোরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে এবং মুসলমানদের বিশ্বাসের উপর নগ্ন আঘাত। আমরা এ ধরনের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড কখনো মেনে নেব না। এই দেশে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ মুসলমান। তাদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি কোনো শ্রদ্ধা না রেখেই কমিশন প্রস্তাব করা হয়েছে। এই এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে দেশের প্রতিটি পরিবারে অস্থিরতা তৈরি হবে, সমাজে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। আমরা খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি এই কমিশন বাতিল না করা হলে দেশের ধর্মপ্রাণ জনতা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
হেফাজতে ইসলাম
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় কিছু বিতর্কিত বিষয় স্থান পেয়েছে বলে মনে করে হেফাজতে ইসলাম। বিশেষ করে বহুত্ববাদের প্রস্তাবনাকে হেফাজত প্রত্যাখ্যান করছে। এই প্রস্তাবনা বাতিল করে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় আপত্তিকরভাবে ধর্মীয় বিধিবিধান, বিশেষ করে ইসলামী উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইনকে নারীর প্রতি বৈষম্যের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে; এই প্রস্তাবনা বাতিলের পাশাপাশি পুরো কমিশন বাতিল করতে হবে বলে জানান দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।
খবরওয়ালা/এসআর