খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫
দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর সম্প্রতি একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনারা নিয়মিতভাবেই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে এবং এর আগের দুই রাতেও এলওসি’তে পাকিস্তান সেনারা বিনা উসকানিতে গুলিবর্ষণ করে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। রামপুর ও তুতমারি গালি সেক্টরের বিপরীত দিকে পাকিস্তান সেনারা এই গুলিবর্ষণ করে, যার জবাবে ভারতীয় সেনারা ‘উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া’ জানিয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
এই উত্তেজনার পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। ২২ এপ্রিল সংঘটিত এই হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার পেছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত রয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পহেলগাম হামলার পর থেকেই পাকিস্তান সীমান্তে নিয়মিত গোলাগুলি চালিয়ে ভারতীয় সেনাদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
পাহাড়ি উপত্যকার সন্ত্রাসী হামলা এবং সীমান্ত সংঘাতের পাশাপাশি নতুন করে পানি নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। ভারত হঠাৎ করে আজাদ কাশ্মীরের ঝিলম নদীর পানি ছেড়ে দিয়েছে, যার ফলে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদে হঠাৎ করে নদীর পানিপ্রবাহ বেড়ে যায়। এতে শহরটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
হাতিয়ান বালা জেলা বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন মসজিদের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করছে। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম দুনিয়া নিউজ জানিয়েছে, ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পানি চুক্তি এবং নিয়মনীতি লঙ্ঘন করেছে। পাকিস্তানের জনগণ এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা (৩৭০ ধারা) বাতিলের পর এই অঞ্চল নতুন করে অস্থিরতায় ফিরে গেছে। সাম্প্রতিক হামলা এবং ভারতের পানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি’র কৌশল হিসেবে দেখছেন।
খবরওয়ালা/এমবি