খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
গাজীপুরের পূবাইলের হায়দরাবাদ এলাকায় একাধিক শিশু-কিশোরকে ধর্ষণের অভিযোগে পিটুনির পর গ্রেপ্তার রহিজ উদ্দিন (৩৫)এক ব্যক্তি কারাগারে মারা গেছেন। রবিবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত তিনটার দিকে গাজীপুর জেলা কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত রহিজ উদ্দিন চাঁদপুরের মতলব থানার বাদশা মিয়ার ছেলে। তিনি হায়দরাবাদ আখলাদুল জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে শিশু-কিশোরকে ধর্ষণের অভিযোগে রহিজ উদ্দিনকে আটক করে গাছে বেঁধে পিটুনি দেন এলাকাবাসী। এর মধ্যে এক কিশোরের অভিভাবক তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছেলেদের সঙ্গে রহিজ উদ্দিন চলাফেরা করতেন বেশি। ছেলেদের ডেকে নিয়ে তাঁর থাকার কক্ষে কম্পিউটার ও মুঠোফোনে গেমস খেলতে দিতেন। দোকান থেকে কিনে পানীয় পান করাতেন। পানীয় পান করে শিশুরা অচেতন হয়ে গেলে তিনি ধর্ষণ করতেন। সম্প্রতি কলেজের এক ছাত্রের সঙ্গে এমন করার আগেই কৌশলে পালিয়ে অন্যদের ঘটনাটি জানায় সে। এরপর গতকাল এলাকার লোকজন রহিজ উদ্দিনকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন।
গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আমিরুল ইসলাম জানান, ছেলে শিশু ও কিশোরদের ধর্ষণের অভিযোগে রবিবার এলাকাবাসী গাজীপুর মহানগরীর হায়দরাবাদ আখলাদুল জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব রহিজ উদ্দিনকে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গাছে বেঁধে গণপিটুনি দেয়। এসময় এলাকাবাসী তার গলায় জুতার মালা দিয়ে ব্যাপক মারধর করে।
পরে নির্যাতিত এক কিশোরের বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ইমাম রহিজ উদ্দিনকে এলাকাবাসীর কাছ থেকে উদ্ধার করে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে রাতেই গাজীপুর জেলা কারাগারে নেয়। রাত ৩টার দিকে তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। সোমবার সকালে মরদেহ ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার রফিকুল কাদের বলেন, ‘রহিজ উদ্দিনের শরীরে ‘পাবলিক অ্যাসল্ট’ ছিল। রাত তিনটার দিকে তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
খবরওয়ালা/এসআর