কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ই মে ২০২৫, ৭:৩৮ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একটি প্রস্তাবিত মাদ্রাসার জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনায় আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছে, এবং মাদ্রাসা নির্মাণ কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার শেহালা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম নূরুল হকের ওয়ারিশরা—ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ কাজল, ড. মুহাম্মদ আলমগীর তৈমুর সজল ও ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর তৈমুর উজ্জল—উত্তর পাড়ায় রাস্তার ধারে তিন শতক জমি হাফেজিয়া মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য দান করেন।
জমিটির আরএস খতিয়ান নম্বর ১৭৯৯ এবং দাগ নম্বর ৩২৩৭। ২০২৪ সালের মে মাসে স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিটি পাকা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। কিন্তু স্থানীয় মৃত ফজলুল হকের ছেলে কামাল আহম্মেদ পাশা (৪৮) ও ইকবাল হোসেন সিন্ধ (৫২)-এর নেতৃত্বে একটি কুচক্রী মহল ওই প্রাচীর ভেঙে নিজেরা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এলাকাবাসী জানান, নূরুল হকের ওয়ারিশরা শুধু মাদ্রাসার জমি নয়, শেহালা গ্রামে যেখানে কোনো গোরস্থান ছিল না, সেখানে দেড় বিঘা জমি দান করে একটি পাকা মসজিদ, ওজুখানা, শৌচাগার ও দাফন সামগ্রী সংরক্ষণের স্টোররুম নির্মাণ করেন। এছাড়া, নিজ অর্থায়নে গ্রামের মানুষের জন্য শেহালা বাজারে একটি বিনামূল্যের ক্লিনিক পরিচালনা করছেন তারা, যেখানে রয়েছে এমবিবিএস ডাক্তার, পরীক্ষার জন্য ল্যাব ও নার্স।
কিন্তু জমি দখলের ঘটনায় তাদের এসব মহৎ উদ্যোগ এখন হুমকির মুখে। এলাকাবাসী বলছেন, প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।
ফারুক হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, ‘আমরা সবাই আশা করেছিলাম এখানে মাদ্রাসা হলে আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করতে পারবে। কিন্তু জমি দখল করে সব বন্ধ করে দিল।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য রিন্টু বলেন, ‘এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। একটা মাদ্রাসা হলে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার হতো। কিছু লোকের বাধায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।’
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কামাল পাশা ও ইকবাল হোসেন আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে জমিটি নিজেদের বলে দাবি করছেন। ২০২৪ সালের ২৪ মে প্রাচীর নির্মাণের পর তারা তা ভেঙে স্থাপনা তুলতে শুরু করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. কামাল আহম্মেদ পাশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক জানান, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে আদালতের নির্দেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কেউ যাতে সেখানে কোনো কাজ করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি
মন্তব্য