খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২১ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বিএনপির রাজনীতি নিয়ে মন্তব্যের জেরে কুমিল্লার দেবীদ্বারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে ও বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০মে) বিকেলে দেবীদ্বার উপজেলা সদরে প্রথমে হাসনাতের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে আহত, শহীদ পরিবার ও ছাত্র-জনতা’। পরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে মিছিল করেন।
গত ১৬ মে, কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত একটি ‘জুলাই সমাবেশে’ হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,“বিএনপির রাজনীতিও আওয়ামী লীগের টাকায় চলে”—এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় বিএনপি। ওই বক্তব্যকে ‘অসৌজন্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিজভিউল আহসান মুন্সীর নেতৃত্বে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপি প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।
এর আগে, সোমবার কুমিল্লা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কুমিল্লা বিভাগীয় (সাংগঠনিক) বিএনপি হাসনাতকে সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায়। অন্যথায়, কুমিল্লার রাজপথে তাঁর কোনো জায়গা থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকরা আজকে বিকাল চারটার দিকে রেয়াজ উদ্দিন সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কসহ উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান দেন—“হাসনাত ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে”, “জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না”, “দেবীদ্বারের মাটি, হাসনাত ভাইয়ের ঘাঁটি” ইত্যাদি।
পরে নিউমার্কেট স্বাধীনতা চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ‘জুলাই আন্দোলনে’ নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা বলেন, “আজ প্রেসক্লাবে স্বাধীনভাবে বিএনপি নেতারা বক্তব্য দিতে পারছেন কাদের কারণে? বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণেই আজ তাঁরা মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।”
হাসনাতের সমর্থকদের ওই কর্মসূচির কিছুক্ষণ পর বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রিজভি উল আহসান মুন্সী বলেন, “হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে কুমিল্লায় তাঁকে কোনো অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না।”
যে বক্তব্যকে ঘিরে আলোচনা
১৬ মে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাসনাত বলেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও তাদের অর্থদাতারা অক্ষত রয়েছে। কুমিল্লার অনেক উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিও আওয়ামী লীগের টাকায় চলে। তাই আওয়ামী লীগের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে অর্থ কাঠামো ধ্বংস করতে হবে।”
এই বক্তব্য চলাকালে মঞ্চে উপস্থিত দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আশিকুর রহমান মাহমুদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, “আপনারা আমার কথায় ভুল বুঝবেন না। আমি আপনাদের ভালোর জন্য বলছি।”
উল্লেখ্য, ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় হাসনাত আবদুল্লাহ স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও সক্রিয়। তবে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে দেবীদ্বার উপজেলায়।