খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
কলকাতার নতুন সিনেমা “দ্য একাডেমি অব ফাইন আর্টস” মুক্তির দিনটিতে হঠাৎ এক অনাকাঙ্ক্ষিত বাধার মুখে পড়ে। সিনেমাটির প্রাপ্তবয়স্ক সনদ পাওয়া এবং পরে ৫৪টি দৃশ্যের পরিবর্তনও সিনেমাটির মুক্তি আটকে দেয়। এই ঘটনা এখন কলকাতায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
চার বছর ধরে নিজেদের পুঁজি দিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি, পরিচালনা করেছেন জয়ব্রত দাশ। সিনেমার শুটিং শেষ হয়েছে ২০২১ সালে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে। পরিচালক বলেন, “আমরা ফিল্ম স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা মিলে সিনেমা তৈরি করেছি। ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে টাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু জানতাম না যে, ফেডারেশনের অনুমতি নিতে হবে।”
ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা ছবির মুক্তি আটকে দিয়েছে কারণ ছবির নির্মাণে তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের গিল্ডের কোনো শিল্পী না নিয়ে কাজ করায় আপত্তি উঠেছে। এই বিষয়ে ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস মন্তব্য করতে চাননি। তবে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের মতে, এই ধরনের সিনেমা আগেও হয়েছে এবং পুরস্কৃতও হয়েছে।
সিনেমার অন্যতম অভিনেতা সৌরভ দাস বলেন, “আমরা অভিনয় করেছি, তবে জানতাম না ছবিটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে। আমরা সবাই কোনো পারিশ্রমিক না নিয়েই কাজ করেছি। ছবিটি মুক্তি পেলে অনেকেই সাহস পাবে এ ধরনের ইনডিপেনডেন্ট ছবি তৈরি করতে।”
সিনেমার পরিবেশক পঙ্কজ লাডিয়া বলেছেন, “এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি মেনে চলব।”
ছবিটির গল্পে একটি বিরল মদের বোতল ঘিরে চুরি, প্রতারণা, পরকীয়া এবং বিশ্বাসঘাতকতার এক উত্তেজনাপূর্ণ থ্রিলার রয়েছে। জয়ব্রত দাশ দাবি করেন, এটি একটি পাল্প অ্যাকশন থ্রিলার, যেখানে কুইন্টিন ট্যারান্টিনোর প্রভাবও রয়েছে। নতুন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি বাংলা সিনেমা জগতে এক নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত তার মুক্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে।