রাজধানীর মিরপুর এলাকার দারুসসালাম থানাধীন বর্ধনবাড়ী এলাকায় তিন মাস বয়সী এক শিশু পুত্রকে মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার ভোরে, যা এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশুটি তার মায়ের পাশে বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। ভোরের দিকে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে সৎ বাবা অপূর্ব উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শিশুটির মাকে হুমকি দিয়ে বলেন, শিশুর কান্না থামাতে, না হলে কঠোর পরিণতির হুমকি দেন। কিছুক্ষণ পরেও শিশুর কান্না না থামায় তিনি হঠাৎ শিশুটির মুখ চেপে ধরেন। এতে শিশুটি শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শিশুটির মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং অভিযুক্ত অপূর্বকে আটক করে। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটির ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুটির পিতা মাদক সংক্রান্ত একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মাত্র এক সপ্তাহ আগে শিশুটির মা রাজিয়া খাতুন অপূর্বকে বিয়ে করেছিলেন। ঘটনার পর রাজিয়া খাতুন বাদী হয়ে দারুসসালাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, নববিবাহিত দম্পতির মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক কলহ চলছিল বলে তারা শুনেছেন। তবে এমন নির্মম ঘটনার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। এলাকায় এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় |
তথ্য |
| ঘটনার স্থান |
বর্ধনবাড়ী, দারুসসালাম, মিরপুর |
| ঘটনার সময় |
শুক্রবার ভোর |
| নিহত |
তিন মাস বয়সী শিশু |
| অভিযুক্ত |
সৎ বাবা অপূর্ব |
| অভিযোগ |
শ্বাসরোধে হত্যা |
| আইনগত ব্যবস্থা |
আটক ও মামলা দায়ের |
| মরদেহ গন্তব্য |
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গ |
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্পূর্ণ পরিস্থিতি উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং পূর্ববর্তী আচরণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।