খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভেতরে মানসিক চাপ, ট্রমা ও আত্মহত্যার ঘটনা ক্রমেই গুরুতর আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির উত্তরাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে কর্মরত এক ইসরাইলি সেনা সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনায় গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আত্মহত্যার কারণে মৃত ইসরাইলি সেনার সংখ্যা দাঁড়াল ৬১ জনে, যা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ইসরাইলি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, নিহত সেনা সক্রিয় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং ‘ট্র্যাকার’ হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলের ওই সামরিক ঘাঁটিতে তিনি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী একটি তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, উত্তরাঞ্চলের একটি ঘাঁটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে সেই সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা শব্দটি এড়িয়ে গেলেও, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গাজা যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী চাপ, যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং ক্রমাগত দায়িত্বের ভার সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইসরাইলি সংসদ নেসেটের এক প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ২৭৯ জন সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে প্রতি সাতটি প্রচেষ্টায় গড়ে একজন সেনা আত্মহত্যায় সফল হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এই পরিসংখ্যান ইসরাইলি সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সেনাবাহিনীর ভেতরে পর্যাপ্ত মানসিক সহায়তা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থাকা সেনাদের জন্য মানসিক পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং এবং চাপ ব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
সাম্প্রতিক এই আত্মহত্যার ঘটনার পর ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সাবেক সেনা ও বিশেষজ্ঞ দাবি করছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যের পাশাপাশি সেনাদের মানসিক সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নতুবা ভবিষ্যতে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজা অভিযান ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসরাইলের সামরিক কার্যক্রম সমালোচনার মুখে রয়েছে। তার মধ্যেই সেনাবাহিনীর ভেতরে ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার ঘটনা যুদ্ধের মানবিক মূল্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।