খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
ভারতের উত্তর প্রদেশের পশুপালন মন্ত্রী ধর্মপাল সিংয়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, মিরাটে এমন একটি মেশিন বসানো হবে যা আবর্জনা থেকে ‘সোনা’ তৈরি করতে সক্ষম। এই বক্তব্যে শুধু রাজ্যেই নয়, গোটা ভারতে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও কটাক্ষ।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে মন্ত্রী ধর্মপাল সিং বলেন, ‘নর্দমা পরিষ্কারের সময় যে আবর্জনা ওঠে, তা পরে আবার নর্দমায় চলে যায়। সেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে। আমরা এমন একটি মেশিন তৈরির কাজ করছি, যা আবর্জনাকে সোনায় পরিণত করতে পারবে। এখন মেশিন তৈরিতে কিছু সমস্যা হয়েছে। তা ঠিক হয়ে গেলে মিরাটে বসানো হবে এই মেশিন।’
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, মেশিনটি পুরোপুরি কার্যকর হলে ‘আবর্জনা থেকে সোনা উৎপাদন’ করা সম্ভব হবে।
এই মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘মন্ত্রী মশাইয়ের কাছে অনুরোধ—প্রথমে কনৌজে গরুর দুধ বিক্রির ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে কৃষকের আয় বাড়ান। তারপর না হয় সোনা তৈরি করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপি নেতারা এখন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন—কে কত বড় মিথ্যা বলতে পারেন।’
এদিকে মন্ত্রী ধর্মপাল সিংয়ের দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে সেটি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের চেনা ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইউরোপীয় নিউক্লিয়ার রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিইআরএন) সম্প্রতি জানিয়েছে, লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে উচ্চ-শক্তির নিউক্লিয়াস সংঘর্ষে অতি অল্প সময়ের জন্য সীসা থেকে সোনার নিউক্লিয়াস গঠিত হতে পারে। তবে এটি এতটাই ক্ষণস্থায়ী ও জটিল যে, এর বাস্তব প্রয়োগ অসম্ভব বলেই গণ্য হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, “আবর্জনা থেকে সোনা” তৈরি করা নিছক কাল্পনিক কিংবা অলৌকিক দাবি। এটি বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না।
এ ধরনের বক্তব্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘ভারতীয় গরুর দুধে সোনার উপাদান রয়েছে, সে কারণেই দুধের রঙ হলদে।’ তখনও এই মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।
সূত্র: দ্য হিন্দু
খবরওয়ালা/আরডি