খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তারাপুর গড়ের মাঠে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এলাকাবাসীর আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়ালেও, সেটিই এখন শত শত কৃষকের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুর নিচে নির্মাণকালীন তৈরি অস্থায়ী বাঁধ ও মাটি অপসারণ না করায় প্রায় দুইশ’ একর আবাদি জমি চরম জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের শেষ দিকে নির্মাণ শেষ হলেও, এখনও সেতুর নিচের অস্থায়ী বাঁধটি সরানো হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি জমে থেকে চাষাবাদের ক্ষতি হচ্ছে প্রতি বছর। ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া খালটিও একটি প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে জমিতে চাষ করতে পারছেন না শতাধিক কৃষক, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকার ফসল।
স্থানীয় কৃষক সুজন বলেন, “ব্রিজ তৈরির সময় যে পাইলিং এবং মাটি ভরাট করা হয়েছিল, তা আজও সরানো হয়নি। এতে পানি বের হতে না পেরে জমিতে জমে আছে। আমরা বারবার জানিয়েও কোনো ফল পাইনি।”
আরেক কৃষক মমিন হোসেন বলেন, “শ’ শ’ বিঘা জমি বছরের পর বছর পানির নিচে পড়ে আছে। জলাবদ্ধতার কারণে ফসল হয় না। অথচ একটু উদ্যোগ নিলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭.৩ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয় ২ কোটি ৪৯ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি হয়, তবে নির্মাণকালীন বাঁধ অপসারণের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সদকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজুল আবেদিন দ্বীপ বলেন, “ব্রিজের নিচের বাঁধ ও মাটি সরানো হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তুলে ধরব।”
এদিকে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে এলজিইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল রাজ্জাক বলেন, “কৃষকদের সমস্যা সম্পর্কে জেনেছি। স্থানীয় প্রকৌশলীর মাধ্যমে দ্রুত বাঁধ অপসারণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এ অঞ্চলের শত শত কৃষককে প্রতি বছরই এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন স্থানীয়দের একমাত্র দাবি—সেতুর নিচের বাঁধ ও মাটি দ্রুত অপসারণ করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হোক, যাতে তাদের ফসল আবার মাঠে ফিরে আসতে পারে।
খবরওয়ালা/এমএজেড