খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ নিরাপত্তা জোরদার এবং বায়ুমান উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক দুইটি প্রকল্পে মোট ৬৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে। বুধবার (১৮ জুন) বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদ এ অর্থায়নের অনুমোদন দেয়।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বায়ুর মান বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার।’
তিনি বলে, গ্যাস সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং নগর বায়ু দূষণের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করে, এই দুটি প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নত এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।
দুটি প্রকল্পের একটি হলো ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোবাংলা কোম্পানিকে সহজে অর্থায়নের ব্যবস্থা করে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এই প্রকল্পটি। এর আওতায় আগামী সাত বছরের মাঝে এলএনজি আমদানিতে ২১০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন মূলধনের ব্যবস্থা করা হতে পারে একটি আইডিএ গ্যারান্টির মাধ্যমে।
আইডিএ হলো ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন। এর আওতায় বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ঋণগুলো বর্ধিত করার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
বর্তমানে দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে, যার ৪২ শতাংশ ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এই প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানিতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং কার্যকর পেমেন্ট ব্যবস্থাও চালু করবে।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পটির টিম লিডার ওলায়িনকা এডেবিরি বলেন, ‘এই উদ্যোগ শিল্প ও জনগণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়ক হবে, যা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
অন্য প্রকল্পটি হলো ২৯০ মিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট। বাংলাদেশে বায়ু দূষণে অন্তত দেড় লাখ মৃত্যু হয়, ২৫০ লাখ দিন ধরে অসুস্থতা ঘটায়, এবং জিডিপির ৮.৩ শতাংশ খরচ হয় স্বাস্থ্য খাতে। বিশ্বের অন্যতম দূষিত একটি শহর ঢাকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া সীমার ১৮ গুণ খারাপ শহরটির বায়ুর মান।
বিশ্ব ব্যাংকের এই প্রকল্পে পরিবেশ অধিদপ্তরের নতুন এবং উন্নতমানের স্টেশন স্থাপন করা হবে এবং এদের মাধ্যমে বায়ুর মান নিয়ন্ত্রণ করা হবে আরো ভালোচাবে। এছাড়া বায়ু দূষণের উৎসগুলোর ওপরেও নজর রাখা হবে।
প্রকল্পটির আওতায় ৪০০টি বাসের ব্যবহার করা হবে যেগুলো কোনো দূষণ তৈরি করবে না। শুধু তাই নয়, শহরের অন্যান্য যানবাহন থেকে কী পরিমাণ দূষণ হচ্ছে তা পরিমাপের জন্যেও ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষা কেন্দ্র এবং পরীক্ষার জন্য বিশেষ কিট দেওয়া হবে। এতে প্রতি বছরে বায়ুতে ২,৭৩৪ মেট্রিক টন পরিমাণ পিএম২.৫ দূষন কমিয়ে আনা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
খবরওয়ালা/এসআর