খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীরা ও তাঁদের স্বজনরা। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের লিফটগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ায় রোগীকে স্ট্রেচারে কাঁধে তুলে সিঁড়ি বেয়ে পাঁচতলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একইভাবে মৃতদেহও নামিয়ে আনা হচ্ছে নিচে।
একের পর এক লিফট বিকল হয়ে পড়ায় এমন দুরবস্থা প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে এসি অচল থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে রোগীদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
জানা গেছে, রোগীর চাপ সামাল দিতে পুরাতন ভবনের বদলে ২০২২ সালে তৈরি মডার্নাইজেশন ভবনটিকে মেডিসিন বিভাগের জন্য ব্যবহার শুরু করে কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আটশ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ভবনটিতে থাকা দুটি রোগী পরিবহনের এবং একটি স্টাফদের ব্যবহারের লিফট—সবগুলোই ১৫ দিন ধরে অচল।
ঝালকাঠির নলছিটি থেকে আসা মৃদুলা জানান, তাঁর বাবাকে জরুরি বিভাগ থেকে মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হলে পাঁচতলায় উঠাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। সঙ্গে কোনও পুরুষ স্বজন না থাকায় স্ট্রেচার বহনের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা ২০০ টাকা দাবি করেন। এভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নামানো-ওঠানোর পেছনে তাঁর খরচ হয় প্রায় ৮০০ টাকা।
আরেক স্বজন মোহাম্মদ হোসেন জানান, “রোগীকে পরীক্ষা করাতে নিচে, আবার ওপরে তুলতে হয়েছে বারবার। এতে লিফট না থাকায় আমাদের অতিরিক্ত ১২০০ টাকা গুনতে হয়েছে। পাঁচতলায় কাঁধে করে রোগী তোলা কতটা কষ্টকর তা বলে বোঝানো যাবে না। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদাসীন।”
শুধু লিফট নয়, হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডের অবস্থা আরও করুণ। দীর্ঘদিন ধরে এসি অচল থাকায় সংকটাপন্ন রোগীরা অতিরিক্ত কষ্টে পড়ছেন। পাশাপাশি, অপর্যাপ্ত টয়লেট ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
পাঁচতলায় ভর্তি থাকা জাহানারা বেগম জানান, বেডের নিচ থেকে ফোম তুলতেই পোকামাকড়ের আস্তানা দেখতে পান। স্বজনরা তাঁকে সাবধান করেন—ফোম না তুলতে, না হলে পোকামাকড় আরও ছড়িয়ে পড়বে। বিষয়টি নার্সদের জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নার্স বলেন, “আইসিইউর এসিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল। একাধিকবার জানিয়েও মেরামত হয়নি। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে আশঙ্কাজনক রোগীদের।”
হাসপাতালের উপপরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান জানান, লিফট ও এসি সমস্যার বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সেই বিভাগটির ওপর। তিনি বলেন, “আমরা শুধু সমস্যাগুলো জানাই। রক্ষণাবেক্ষণ তাদের কাজ।”
তিনি আরও বলেন, “আড়াই শতাধিক বেডের জায়গায় এখন ৮০০ রোগী এবং প্রায় এক হাজার স্বজন থাকায় টয়লেট ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
গণপূর্ত বিভাগের উপপরিচালক আসলাম উল কবির জানান, লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কোম্পানির কাছে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। অর্থ পরিশোধ না করায় তারা লিফট সচলে গড়িমসি করছে। তবে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে আংশিক বিল পরিশোধ করা হবে এবং লিফট সচল করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
খবরওয়ালা/এমএজেড