খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পান দোকানি নজরুল বেপারী (৩২) হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পেছনে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং হাতাহাতির জের রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ জুন) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) শরীফ আল রাজীব।
গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার হোসেন মণ্ডল পাড়ার মো. সুলতানা মিয়ার ছেলে রনি মিয়া ওরফে আরমান হোসেন (২২) এবং সোহরাব মণ্ডল পাড়ার মৃত আতর আলী মোল্লার ছেলে মো. ইসমাইল মোল্লা ওরফে ঝড়ু (২০)।
নিহত নজরুল বেপারী, দৌলতদিয়া ঈমানখা পাড়ার মৃত শাহাজউদ্দিন বেপারীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও জুয়া আইনে দুটি মামলা ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব বলেন, ‘গত ২২ জুন রাত ১২টার দিকে নজরুল বাড়ি থেকে দোকানের চাবি নিয়ে দোকান খোলার জন্য দৌলতদিয়া পূর্বপাড়া পতিতাপল্লির উদ্দেশ্যে যায়। পরবর্তীতে ওই রাতে নজরুল বাড়িতে ফেরেনি। ওই রাতে নজরুলকে অজ্ঞাতনামা কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে হত্যা করে। পরদিন সকাল পৌনে ৭টার দিকে গোয়ালন্দঘাট থানার উত্তর দৌলতদিয়া ইমান খার পাড়া এলাকার রেলের সীমানা পিলারের কাছে নজরুল বেপারীর মরদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ২৩ জুন নিহত নজরুলের ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।’
পরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২৬ জুন রাত ২টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রনি মিয়া ওরফে আরমান হোসেনকে ও একই তারিখ ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা জেলার সাভার থানার রেডিও কলোনী থেকে ইসমাইল মোল্লা ওরফে ঝড়ুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় ভুক্তভোগী নজরুলের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা ও জুয়া খেলার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি হয়। তখন আসামি রনি মিয়া ওরফে আরমান হোসেন ও ইসমাইল মোল্লা ওরফে ঝড়ুসহ আরও অজ্ঞাতনামা আসামিরা নজরুলকে হত্যা করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা ও ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘গ্রেপ্তার রনির নামে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দঘাট থানায় ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি প্রস্তুতি, নারী নির্যাতন, মারামারিসহ ১৪টি মামলা ও ঝরুর নামে চুরি-ডাকাতির ২টি মামলা আছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজনের রিমান্ড চাইব আমরা। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
খবরওয়ালা/এসআর