খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫
রাজধানীর মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা হলেন সৌদিপ্রবাসী মনির হোসেন, তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও ছেলে নাঈম হোসেন। রবিবার (২৯ জুন) বিকেলে লাশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মৃত দম্পতি তাদের ছেলের চিকিৎসার জন্য লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের বাড়ি থেকে শনিবার ঢাকায় আসেন। তারা মগবাজার সুইট স্লিপ হোটেলে ওঠেন। শনিবার ডাক্তার দেখাতে পারেননি তারা।
রাতে মগবাজারের একটি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার এনে হোটেলে খান। এর পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। রবিবার দুপুরে অচেতন অবস্থায় তিনজনকে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গতকাল রাত ও আজ সকালে পাশের ‘ভর্তা ভাত’ নামের একটি হোটেল থেকে খাবার এনে খায়। এরপর সকালে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। হোটেলের স্টাফরা তাদের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর একে একে তিনজনের মৃত্যু হয়।
মৃত মনির হোসেন সৌদিপ্রবাসী। তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা। তাঁর বাবার নাম সেরাজুল হক ব্যাপারী। তাঁদের লাশ ঢাকা আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ সেখানে তাঁদের সুরতহালসহ আইনিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
চিকিৎসকদের বরাতে পুলিশের এসআই বলেন, চিকিৎসকদের ধারণা, খাবারের কোনো বিষক্রিয়ায় তাঁদের মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে।
হোটেল সুইট স্লিপের সহকারী ম্যানেজার আব্দুল মানিক জানান, গতকাল বিকেলে মনির হোসেন তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে ও তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে হোটেলে আসেন। তাঁরা গতকাল সন্ধ্যায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে যান। সেখান থেকে রাতেই হোটেলে আসেন। তাঁদের সঙ্গে তাঁদের এক কেয়ারটেকারও ছিলেন। কেয়ারটেকার তাঁদের দেখাশোনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন হোটেল থেকে খাবার এনে দিতেন। সেই খাবারই তাঁরা খেয়েছেন। তাঁরা কখন অসুস্থ হয়েছেন, তা হোটেলের কেউ টের পাননি। কেয়ারটেকার প্রথমে একজনকে হাসপাতালে নিয়ে যান, এরপর ওই পুরুষকেও নিয়ে যান। তখন হোটেলের সবাই বিষয়টি জানতে পারেন।
খবরওয়ালা/এন