এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: 16শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৩০ই জুন ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলা সাহিত্য ও চিন্তাজগতে আহমদ ছফা এক ব্যতিক্রমী নাম। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মী—যিনি নিজের স্বতন্ত্র চিন্তা, স্পষ্টভাষী স্বভাব ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাবের মাধ্যমে বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে এক অনন্য অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।
আহমদ ছফার জীবনের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল তাঁর প্রথাবিরোধিতা। তিনি ছিলেন এমন একজন লেখক, যিনি সামাজিক রীতিনীতি ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক চিন্তাধারার বাইরে চিন্তা করতেন এবং লিখতেন। জীবদ্দশায় অনেকেই তাঁকে “বিদ্রোহী”, “বোহেমিয়ান”, “উদ্ধত” ও “বিতর্কপ্রবণ” বলে অভিহিত করেছেন। তবে এই সমালোচনার মাঝেও ছফা কখনো নিজ অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি।
ছফার লেখনীতে যেমন ছিল চিন্তার গভীরতা, তেমনি ছিল প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাবের দৃঢ় প্রকাশ। তাঁর এই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটে পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়েও। ১৯৭৫ সালে তিনি লেখক শিবির পুরস্কার এবং ১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমির সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। এই প্রত্যাখ্যান কেবল অহংকারের বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বরং এটি ছিল একটি অবস্থান—বুদ্ধিবৃত্তিক স্বকীয়তা রক্ষার এক দৃপ্ত উচ্চারণ।
তাঁর এই স্পষ্টবাদিতা ও অনমনীয়তা অনেক সময় তাঁকে সমসাময়িক মহলে বিতর্কিত করেছে। তবে এই বিতর্কই তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে এক সৎ ও প্রশ্নমুখর চিন্তাবিদ হিসেবে।
মৃত্যুর পরেও ছফার চিন্তা ও কৃতির মূল্যায়ন থেমে থাকেনি। ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সাহিত্যে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে। এটি যেন দেশের তরফ থেকে তাঁর প্রতি এক দেরিতে আসা শ্রদ্ধাঞ্জলি।
আহমদ ছফা কেবল একটি নাম নয়—তিনি ছিলেন এক বিস্ময়, এক প্রতিবাদ, এক বিকল্প চিন্তার নাম। তাঁর সাহসী অবস্থান, গভীর মনন ও প্রথাভাঙা দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরকে সমৃদ্ধ করেছে। ভবিষ্যতের চিন্তাবিদ ও লেখকদের জন্য তিনি হয়ে থাকবেন এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ক্ষণজন্মা আহমদ ছফার আজ জন্মদিন। জন্মদিনে তাঁর প্রতি অতল ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা