খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ক্রেতাদের প্রতিদিন ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের খালি বোতল দেখে দুশ্চিন্তায় পড়েন মুদি দোকানদার ইমান ঢালি।এগুলোর পুনর্ব্যবহার কীভাবে করা যায়, তাঁর খোঁজ করেন ইউটিউবে। সেখানে ভিডিও দেখেই জানতে পারেন, নির্মাণকাজে ইটের বিকল্প হিসেবে এসব খালি বোতলে বালু ভরে তা দেয়াল ব্যবহার করা যায়। এরপর স্থানীয় এক রাজমিস্ত্রির সঙ্গে পরামর্শ করে তার নিজের বাড়ি নির্মাণে এসব বোতল ব্যবহার করছেন তিনি।
গ্রামের হাটবাজারে প্রায় এক বছর ঘুরে ২৫০ ও ৫০০ মিলির অন্তত ৪০ হাজার প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করেন ইমান ঢালি। আর পরিবারের সদস্যরা মিলে বোতল সংগ্রহের সময়টাতে সংগৃহীত বোতলে বালু ভরেছেন। পরে বোতলগুলোর মুখ বন্ধ করে একটির ওপর আরেকটি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে বালু-সিমেন্টের প্রলেপে। শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের মেঘনা তীরবর্তী মাইঝারা গ্রামে বাড়িটির নির্মাণকাজ চলছে। চরাঞ্চলটিতে বসবাস করেন ইমান ঢালি। সেখানে স্থানীয় বাজারে তাঁর একটি মুদিদোকান আছে।
মঙ্গলবার (১লা জুলাই) সকালে ইমান ঢালি বলেন, তাঁর দোকানসহ বাজারের বিভিন্ন দোকানে প্রতিদিনের ব্যবহৃত খালি প্লাস্টিকের বোতলগুলো এলাকার ডোবা-নালা নোংরা করছিল দেখে মনে কষ্ট হতো। তখন তিনি বোতলগুলো জড়ো করে মজুত করতে শুরু করেন। পরে যখন ইউটিউবে দেখতে পান, বোতল দিয়েও ঘরের দেয়াল নির্মাণ করা যায়। তখন আরও খালি বোতল সংগ্রহ করতে থাকেন। এখন বোতল দিয়ে ঘর নির্মাণই শুরু করে দিয়েছেন। ইটের তৈরি পিলারের পাশে বোতল সাজিয়ে এতে সিমেন্টের আস্তর দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। ছাদসহ চার কক্ষের ঘরটির নির্মাণে ৮-৯ লাখ টাকা লাগতে পারে।
ইমান ঢালীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার। তার বসবাসের পুরোনো টিনের ঘরটি ভেঙে সম্প্রতি সেখানে একতলা একটি পাকা দালান নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি। চার কক্ষবিশিষ্ট বাড়িটির সব কটি দেয়ালই নির্মিত হচ্ছে প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে। পাশের এলাকার ইব্রাহীম সর্দার আরও তিনজন শ্রমিক নিয়ে নির্মাণকাজটি করছেন।
রাজমিস্ত্রি ইব্রাহীম সর্দার বলেন, এলাকায় ইট দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছেন সবাই। কিন্তু কখনো প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করেননি।বাড়িটির মালিক ইমান তাঁকে ভিডিও দেখিয়ে নির্মাণপদ্ধতি শিখিয়েছেন। বোতলের দেয়াল তৈরিতে খুব ধীরে ধীরে সাজিয়ে-গুছিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বালুভর্তি একটি বোতলের ওপর আরেকটি সাজিয়ে সিমেন্টের প্রলেপ দিতে হয়। তাছাড়া বোতলের গায়ের রংই দীর্ঘদিন থাকবে তাই বোতলের দেয়ালে আলাদা রং করতে হবে না। ভিন্ন ভিন্ন রঙের বোতল ব্যবহারের মাধ্যমেও দেয়াল সাজানো সম্ভব।
পরিবারের সদস্যরা মিলে এক বছর ধরে বোতলগুলো সংগ্রহের পর এগুলোর ভেতর বালু ভর্তি করেছেন বলে জানান ইমান ঢালীর স্ত্রী রুনা লায়লা। তিনি বলেন, এখন নির্মাণশ্রমিকেরা বালুভর্তি বোতলগুলো ব্যবহার করে দেয়াল নির্মাণ করছেন। তাঁদের এমন বিকল্প নির্মাণকাজ দেখতে আশপাশের লোকজন বাড়িতে ভিড় করছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের শরীয়তপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান বলেন, ‘আপাতদৃষ্টে এটি ভালোই মনে হচ্ছে। কেননা প্লাস্টিকগুলো সরাসরি পরিবেশে যাচ্ছে না এতে পরিবেশ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছে । আমরা ভবিষ্যতের জন্য প্রজেক্টটি আমলে রাখবো।’
খবরওয়ালা/টিএস