খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত চিটাগাং ক্লাবে আয়োজিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত এই বিয়ে ছিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং বোয়ালখালী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাহেদুল হকের ছেলের।
বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে ক্লাবের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয় একদল বিক্ষুব্ধ লোক। নিজেদেরকে সাধারণ শিক্ষার্থী, এনসিপির সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে তারা অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হওয়া প্রতিটি গাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং জাহেদুল হককে খুঁজতে থাকে। এতে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্লাবের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
তবে এই বিক্ষোভের পেছনে এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এইচ এম ওবায়দুর রহমান আফসার নামের একজন ব্যক্তি, যিনি নিজেকে একজন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, তিনি তার ফেসবুক পোস্টে এই দাবির কথা প্রকাশ করেন।
তার ভাষায়, “চিটাগং ক্লাব এবং বিয়ে—একটা অথেনটিক তথ্য দেই। সারাদিন বাজেটিং চলছিল, সন্ধ্যার মধ্যেই সব টাকা পে করার কথা ছিল। কিন্তু রাত ৯টা পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ না পেয়ে বিষয়টি ফাঁস করে দেয়। দাবিকৃত এমাউন্ট ছিল ১ কোটি।”
তিনি আরও লিখেন, “চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পেয়েই ‘ছাত্র জনতা’র নামে মব সন্ত্রাসীরা এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এখানে প্রতিবাদ ছিল মূলত চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল—চাঁদা না দিলে সম্মানহানি ও হেনস্তা করার হুমকি।”
তবে জাহেদের বিরুদ্ধে অর্থের জোগানদাতা, হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনসিপির প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান।
এই ঘটনার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অভিযুক্ত পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। তবে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এ ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী জাহেদুল হক শুধু একজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা নন, তিনি একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে (স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক) দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ধরনের ‘প্রতিবাদ কর্মসূচির’ আড়ালে চাঁদাবাজির মতো জঘন্য অভিযোগ উঠায় গোটা ঘটনার দিকে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দেশের সচেতন মহল।
খবরওয়ালা/এমএজেড