খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে ‘মব’ তৈরি করে জামায়াত নেতা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নওশেদ জামালকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার বিরুদ্ধে।
শনিবার (৫ জুলাই) নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন নওশেদের স্ত্রী রিয়াজুল জান্নাত। তিনি অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে আগ্রাবাদে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কার্যালয়ের সামনে থেকে ১০–১৫ জন লোক তাঁর স্বামীকে ধরে মারধর করে। পরে ‘মব’ তৈরি করে তাকে কোতোয়ালি থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তড়িঘড়ি করে একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রিয়াজুল জান্নাত দাবি করেন, তাঁর স্বামী শুধু মেঘনা পেট্রোলিয়াম এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকই নন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন রুকন এবং বাগমনিরাম দক্ষিণ সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি তাঁর স্বামীর কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে ফাঁসাতে নানা ধরনের চক্রান্ত করা হয়। এমনকি পতেঙ্গার ইস্টার্ন কেবলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে বসে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরিকল্পনা করা হয় কীভাবে তাঁকে ফাঁসানো যায়।
রিয়াজুল অভিযোগে আরও বলেন, তাঁর স্বামীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন ‘বৈষম্যবিরোধী’ মামলায় জড়িয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে আহ্বান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যিনি এই অভিযোগ করেছেন, তিনি যদি আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির ন্যূনতম প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় আইনের হাতে নিজেকে সোপর্দ করব। প্রমাণ থাকলে আমার নামে একাধিক মামলাও হোক—আমার আপত্তি নেই। তবে যদি প্রমাণ দিতে না পারেন, তাহলে আমি মানহানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব। কারণ, আমার সম্মানহানি মানে পুরো বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মের সম্মানহানি।’
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘আমি টাকা লেনদেনের বিষয়ে কিছু জানি না। কেউ অভিযোগ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের একাধিক সূত্র বলছে, গত বছর আগস্টে শ্রমিক লীগ ঘনিষ্ঠ বেশিরভাগ নেতার কারাগারে যাওয়ার পর সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে দপ্তরে বিভক্তি দেখা দেয়। এর জের ধরেই নওশেদ জামালকে ফাঁসানো হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছেন অনেকে।
খবরওয়ালা/আরডি