খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, দেশের বর্তমান নির্বাচনব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ কারণে বিপুলসংখ্যক ভোটার মনে করেন, তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতেও যাবেন না। এ অবস্থাকে তিনি সরকারের জন্য “উদ্বেগজনক সংকেত” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ‘কথা’ নামের নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনামূলক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ কামাল জানান, তার ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি পরিচালিত এক উন্মুক্ত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন না।
তার ভাষায়, “ভোট যেভাবে হচ্ছে, তাতে এই সিস্টেমের ওপর জনগণের আস্থা নেই। কেউ হয়তো ভোট দিতে যাবে না, কারণ সে আওয়ামী লীগের বাইরে আর কাউকে প্রার্থী হিসেবে দেখছে না। কেউ হয়তো বলবে, আমার পছন্দের প্রার্থী নেই—তাই ভোটে অংশ নেব না।”
তিনি বলেন, “এটা যারা ভোটের আয়োজন করছেন—তাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা ও এলার্মিং রেজাল্ট। নির্বাচন আয়োজক ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বকে এখনই আত্মসমালোচনায় যেতে হবে।”
জরিপের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মাসুদ কামাল বলেন, “অনেকে হয়তো বলবেন, এই চ্যানেলে আওয়ামী লীগের দর্শক বেশি, কিন্তু আমি কাউকে বাধা দিইনি। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি কিংবা সাধারণ নাগরিক—সবাই এই জরিপে অংশ নিতে পেরেছেন।”
তিনি জানান, “এটি ছিল গোপন ব্যালটের মতোই—একটি ক্লিকেই একজন অংশ নিতে পেরেছেন। এখানে কারও ওপর চাপ ছিল না। তাই আমি এই ফলাফলের ভেতরে একটা নির্ভেজাল জনমত দেখতে পাচ্ছি।”
মাসুদ কামাল বলেন, “সরকারকে এখন ভাবতে হবে—কেন জনগণ ভোট দিতে আগ্রহ হারাচ্ছে। আস্থাহীনতার জায়গাগুলো কোথায়, তা চিহ্নিত না করতে পারলে বড় নির্বাচন আয়োজনের অর্থ হবে না।”
তিনি উল্লেখ করেন, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দিতে চান। কিন্তু যেখানে ৭১ শতাংশ ভোটারই ভোট দিতে যেতে চান না, সেখানে শ্রেষ্ঠ নির্বাচন কীভাবে সম্ভব?”
সাংবাদিক মাসুদ কামালের এই পর্যবেক্ষণ দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে জনগণের অনীহা শুধু নির্বাচন কমিশনের জন্য নয়, বরং গোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপরই বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে। সময়মতো সেসব প্রশ্নের জবাব না মিললে আগামীর গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কাই ফুটে উঠছে তার বক্তব্যে
খবরওয়ালা/এমএজেড