Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন তার বিরুদ্ধে দেওয়া পাঁচ বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আপিল করেছেন। এ তথ্য জানা গেছে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে, যখন তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল দায়ের করেন।
মামলাটির প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের মধ্যে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ওই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি থেকে রাজসাক্ষী বা অ্যাপ্রোভার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে সহযোগিতা করেন, যা পরবর্তীতে তার সাজা নির্ধারণে প্রভাব ফেলে।
১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল মামলায় রায় ঘোষণা করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। একই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এক পর্যায়ে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার এই পদক্ষেপকে অনেকেই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সত্য উদঘাটনের দিক থেকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিলের মাধ্যমে সাবেক আইজিপি মামুন তার সাজা হ্রাস বা পুনর্বিবেচনার জন্য আদালতের নিকট যুক্তি উপস্থাপন করবেন। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ট্রাইব্যুনালের এই আপিল প্রক্রিয়া দেশের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ন্যায়পরায়ণতা পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ক্রিমিনাল আইন ও আন্তর্জাতিক অপরাধের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজসাক্ষীর অবস্থান থেকে আসামি হয়ে পুনরায় সাজা চ্যালেঞ্জ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। তবে এটি দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত জটিলতা ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রতিফলিত করে। এ ধরনের আপিলের ফলাফল আগামীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।