খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
‘আমাদের শিক্ষার্থীরা সবাই বিবাহিত, ফলে তারা নিয়মিত ক্লাসে আসেনি, লেখাপড়ায় মনোযোগও ছিল না। এজন্য হয়তো কেউ পাস করতে পারেনি’—এভাবেই নিজের স্কুলের শূন্য পাসের হার ব্যাখ্যা করেছেন পিরোজপুরের এক প্রধান শিক্ষক।
২০২৪ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পিরোজপুর জেলার দুটি বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ফল প্রকাশের পর বরিশাল বোর্ডে শূন্য পাসের তালিকায় পিরোজপুরের জুজখোলা সম্মিলিত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও মধ্য চড়াইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়–এর নাম উঠে আসে।
জানা যায়, জুজখোলা বিদ্যালয় থেকে ১২ জন ও চড়াইল বিদ্যালয় থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫ জন করে মোট ১০ জন, এবং সবাই ফেল করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামের এক অভিভাবক বলেন, এ বিদ্যালয়ে এবার কেউ পাস করতে পারেনি। এতে আমাদের এলাকার নাম খারাপ হচ্ছে। এখানে শিক্ষকরা তো প্রতিদিন আসেন, ঠিকমতো ক্লাস নেন কিনা সেটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিষ্ঠান দুটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পরেও শিক্ষকদের অবহেলায় পড়ালেখার মান থমকে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানের প্রতি শিক্ষা কর্মকর্তাদের কোনো তদারকি নেই।
সদর উপজেলার জুজখোলা সম্মিলিত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম হালদার বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর ১২ জনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছিলাম। তার মধ্যে ৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং সবাই ফেল করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা সবাই বিবাহিত, ফলে তারা নিয়মিত ক্লাসে আসেনি, লেখাপড়ায় মনোযোগও ছিল না। এজন্য হয়তো কেউ পাস করেনি।’
ভান্ডারিয়া উপজেলার মধ্য চড়াইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর আমাদের স্কুল থেকে ৭ জন রেজিস্ট্রেশন করেছিল। এর মধ্যে ৪ জন নিয়মিত এবং ১ জন অনিয়মিতভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। গ্রাম পর্যায়ের স্কুল হওয়ায় সবাই নিয়মিত ক্লাস করে না। এরা বাসায়ও ঠিকমতো পড়াশোনা করে না। যার ফলে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, এ বিষয়ে আমরা কোনো তথ্য এখনো পাইনি, এসব তথ্য মূলত বোর্ডে থাকে। খোঁজ নিয়ে পরে আপনাকে জানাবো।
খবরওয়ালা/এন