খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
উচ্চশিক্ষার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় উঠে এসেছে বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ও এর চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থী ভিসা, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও স্কলারশিপের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
আইনজীবী দম্পতি জাহিদুল হক খান ও রওনক জাহান কানাডায় পড়তে যাওয়ার আশায় বিএসবি গ্লোবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি দুজনের শিক্ষার্থী ভিসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু ভিসা তো দূরের কথা, টাকা ফেরত চাইলে প্রতিষ্ঠানটি তাও দেয়নি। এ ঘটনায় তাঁদেরসহ ১৮ জনের পক্ষে গত ৫ মে গুলশান থানায় বাশার ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়।
এ মামলার তদন্ত করছেন গুলশান থানার এসআই রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এরই মধ্যে, ১৪১ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৮ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে খায়রুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলাটি করেছেন সিআইডির এসআই রুহুল আমিন। একই মামলায় বাশারের স্ত্রী খন্দকার সেলিমা রওশন ও ছেলে আরশ ইবনে বাশারকেও আসামি করা হয়েছে।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাশার পরিবার মিলে একটি প্রতারণা চক্র গড়ে তোলে। স্কলারশিপ, সহজ ভিসা ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ফেলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। এখন পর্যন্ত ৪৪৮ জন ভুক্তভোগী প্রতারণার শিকার হওয়ার কথা জানালেও সিআইডির ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।
শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন থানায় বাশারের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অন্তত ১০০ জন বাদী হয়ে এসব মামলা করেছেন। বেশ কয়েকটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। ফলে বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ঢাকার শরীয়তপুরের আমির হোসেন, কানাডায় পড়তে যাওয়ার আশায় বিএসবিকে ১৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি তিন মাসের মধ্যে ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো ভিসা মেলেনি। টাকা ফেরত চাইলে সেটাও দেয়নি। পরে তিনি আরও ২২ জনকে নিয়ে বাশারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন, যার আর্থিক পরিমাণ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস গত বছরের সেপ্টেম্বরে একই অভিযোগে বাশারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল ১৬ লাখ টাকা।
বিএসবি গ্লোবালের মহাব্যবস্থাপক আবু জাহিদ প্রতারণার এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তাঁর আইনজীবী রুবায়েত হাসান বলেন, “বিএসবি অনেক শিক্ষার্থীকে বিদেশে পাঠিয়েছে। কিছু সমস্যার কারণে যারা যেতে পারেননি, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।”
এদিকে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, সিআইডির মাধ্যমে বাশার গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য তাঁরা পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য পরিষ্কার—তাঁরা বিদেশে যেতে না পারলেও অন্তত তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ যেন ফেরত পান। সেই সঙ্গে প্রতারকদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন তাঁরা।
খবরওয়ালা/এমএজেড