খবরওয়ালা স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ দৌড়বিদ ফৌজা সিং আর নেই। ১১৪ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ। সোমবার (১৪ জুলাই) ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধর-পাঠানকোট মহাসড়কে একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের খেলাধুলার অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ফৌজা সিংয়ের জন্ম ১৯১১ সালের ১ এপ্রিল, পাঞ্জাবের জলন্ধরের বেয়াস গ্রামে। দীর্ঘ জীবন পেরিয়ে, তিনি শুরু করেছিলেন তার ক্রীড়া ক্যারিয়ার ৮৯ বছর বয়সে, যা তাকে পরিণত করেছিল বিশ্বব্যাপী এক অনুপ্রেরণায়। ২০০০ সালে লন্ডন ম্যারাথনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৌড় প্রতিযোগিতায় পা রাখেন। এরপর লন্ডন, নিউইয়র্ক, টরন্টোসহ নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নেন এবং ২০০৩ সালের টরন্টো ম্যারাথনে ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন, যা ছিল তার দীর্ঘতম সময়ের দৌড়।
তিনি শুধু দৌড়বিদ হিসেবে নয়, সামাজিক এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার প্রেরণাদায়ক জীবনযাত্রা আজও অনেককে প্রভাবিত করে।
ফৌজা সিংয়ের ক্রীড়া জীবনের অন্যতম বড় অর্জন ছিল ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিক এবং ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের মশাল বহন করা। এই সম্মানটি তাকে কেবল ক্রীড়াজগতে নয়, মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে তিনি ডেভিড বেকহ্যাম ও কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেইনেও অংশ নিয়েছিলেন।
ফৌজা সিংয়ের মৃত্যুর পর, পাঞ্জাবের রাজ্যপাল গুলাব চাঁদ কাটারিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ফৌজা সিংজির প্রয়াণে আমরা একজন অসাধারণ মানুষকে হারালাম। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নেশামুক্ত পাঞ্জাব অভিযানে তার সঙ্গে হাঁটার অভিজ্ঞতা আমার জন্য আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানদের হারানোর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে ৮৯ বছর বয়সে দৌড় শুরু করেন। তার এই দৃঢ় মানসিকতা এবং জেদ তাঁকে ক্রীড়াজগতে এক অনন্য অবস্থানে পৌঁছে দেয়। তাঁর জীবন ছিল এক বাস্তব অনুপ্রেরণা।
ফৌজা সিংয়ের প্রবাসে থাকা সন্তানরা দেশে ফিরলে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোক বার্তা আসছে। ক্রীড়াজগতে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।
এটি শুধু একটি দুঃখজনক ঘটনা নয়, বরং মানবতার এক মহামূল্যবান কাহিনী। ১১৪ বছর বয়সেও তিনি যে জীবনের প্রতি এত শক্তি এবং ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা সবার জন্য এক অমূল্য শিক্ষা।
খবরওয়ালা/আরডি