এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল নাম বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রথম কোনো সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী বিচারপতি হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন, যা আমাদের জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের পুড্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম। তিনি এক উচ্চশিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা অধ্যাপক দীনেশ দেবনাথ ছিলেন সাবেক সাব জজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক।
শৈশব কেটেছে রাজবাড়ীতে, তবে বাবার চাকরির কারণে থাকতে হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ১৯৭০ সালে সিলেট গার্লস স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক, এরপর রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.জুর ও এম.জুর ডিগ্রি অর্জন করে আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন রাজশাহী জেলা আইন সমিতিতে।
অসাধারণ মেধা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮১ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ধাপে ধাপে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে যান—১৯৯৪ সালে অতিরিক্ত জেলা জজ, ১৯৯৮ সালে জেলা জজ, এবং সর্বোপরি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে তাঁর গৌরবময় যাত্রা সমাপ্তি পায়।
শুধু বিচারক হিসেবেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি সমানভাবে অনুপ্রেরণাদায়ী। তাঁর স্বামী স্বপন দত্ত বাংলাদেশের সুপরিচিত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। তাঁদের দুই কন্যা—ড. আনন্দী কল্যাণ ও ড. ইন্দিরা কল্যাণ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত।
অবসরের পরও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ তাঁর অভিজ্ঞতা ও জীবনের গল্প শেয়ার করছেন নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল “প্রমাণিত অপ্রমাণিত” অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বাংলাদেশের নারী বিচারক সমাজে তিনি পথপ্রদর্শক, সাহস ও প্রেরণার প্রতীক।
আজ তাঁর জন্মদিনে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা