খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্ব রাজনীতিতে টানাপোড়েন, আঞ্চলিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে ২০২৬ সাল ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা। তাঁর অনুসারীদের দাবি, বহু বছর আগেই তিনি সতর্ক করেছিলেন—২০২৬ সাল বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও ধ্বংসের বার্তা বয়ে আনতে পারে। বছরের শুরুতেই নানা ভূরাজনৈতিক ঘটনার সমাপতনে সেই কথিত সতর্কবার্তাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাবা ভাঙ্গার নামের সঙ্গে যুক্ত আছে বেশ কিছু আলোচিত ঘটনার পূর্বাভাসের দাবি। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে হামলা, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু কিংবা চীনের উত্থান—এসব তিনি আগাম ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। যদিও এসব দাবির ঐতিহাসিক নথিভিত্তিক প্রমাণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবু অনুরাগীদের বিশ্বাস অটুট। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে তাঁর নামে প্রচারিত হয়েছে—২০২৬ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হতে পারে এবং মানুষের সঙ্গে ভিনগ্রহের প্রাণীর যোগাযোগ স্থাপিত হতে পারে।
১৯৯৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে বাবা ভাঙ্গার মৃত্যু হলেও তাঁর কথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো থামেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো নতুন প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা পেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে আসে।
১৯১১ সালে জন্ম নেওয়া ভ্যাঞ্জেলিয়া পান্দেভা গুশতেরোভা শৈশবে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে দৃষ্টিশক্তি হারান। অনুসারীদের মতে, সেই ঘটনার পরই তাঁর ‘অন্তর্দৃষ্টি’ জেগে ওঠে। প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও তিনি ধীরে ধীরে বুলগেরিয়া ছাড়িয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে বৈশ্বিক রাজনীতি—সব বিষয়েই মানুষ তাঁর পরামর্শ চাইত। কথিত আছে, তিনি ৫০৭৯ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পূর্বাভাস দিয়েছেন।
বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকায় উত্তেজনা, ইউরোপকেন্দ্রিক সংঘাতের আশঙ্কা, গণবিক্ষোভ এবং সামরিক তৎপরতা—এসব খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবা ভাঙ্গার বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। টিকটক, এক্স ও ইউটিউবে এসব ভিডিওতে বাস্তব খবরের সঙ্গে গুজব ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বও মিশে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনিশ্চয়তার সময় মানুষ ভবিষ্যৎ জানতে চায় বলেই এসব কথিত ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে এগুলো কোনো বৈজ্ঞানিক বা প্রামাণ্য পূর্বাভাস নয়।
নিচের ছকে ২০২৬ সাল নিয়ে বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচারিত প্রধান সতর্কতাগুলো তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | কথিত পূর্বাভাস | সম্ভাব্য ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| বৈশ্বিক সংঘাত | বড় শক্তির দ্বন্দ্বে যুদ্ধ | ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন |
| প্রাকৃতিক বিপর্যয় | ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত | জলবায়ু ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ |
| অর্থনৈতিক অস্থিরতা | ইউরোপকেন্দ্রিক ধাক্কা | মুদ্রাস্ফীতি ও বাজার অস্থিরতা |
সমর্থকদের মতে, রুশ সাবমেরিন দুর্ঘটনা, টুইন টাওয়ারে হামলা বা বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের উত্থানের মতো ঘটনায় তাঁর কথার প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু বা ভিনগ্রহের প্রাণীর আগমনের মতো দাবিগুলো বাস্তবে ঘটেনি।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সাল নিয়ে বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণী বর্তমান উদ্বেগকে প্রতিফলিত করলেও এগুলোকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইতিহাস বলছে, ভয় ও কৌতূহলের সময়েই এমন কথার প্রসার ঘটে। বাস্তব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণই শেষ কথা।