খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। শনিবার (১৯ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা, আহতদের জরুরি চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে বলা হয়, ১৬ জুলাই এনসিপির কর্মসূচিকে ঘিরে গোপালগঞ্জে দলটির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে দিনভর চলা সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন এবং অর্ধশতাধিক আহত হন, যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বিবৃতিদাতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গাফিলতির প্রশ্ন তোলেন।
ওই কর্মসূচির আগের দিন থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচুর বিদ্বেষ ও উত্তেজনাকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছিল। জেলা প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তা জানা থাকা স্বাভাবিক হলেও কেন যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হয়নি, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ১৬ জুলাই সকালে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার পর এবং সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা ও অস্ত্রসহ সমাবেশস্থলে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তাঁরা নিরব ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সহিংস তাণ্ডবের এক পর্যায়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় সহিংস অস্ত্রধারী এবং বিক্ষুব্ধ কিছু মানুষের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে কয়েকজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিহত ব্যক্তিরা বাদে আরও ৯ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কর্তব্যে অবহেলা, গুলিবর্ষণের ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অন্য ধরনের বাড়াবাড়ি হয়েছিল কি না, তা–ও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী শাস্তির পাশাপাশি গোপালগঞ্জের নারী, শিশু, বয়স্ক মানুষসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বিবৃতিদাতারা। তাঁরা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জান, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, বারসিকের পরিচালক পাভেল পার্থ, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেলিন, দীপায়ন খিসা, আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী, সাঙ্গাতের কোর সদস্য মুক্তাশ্রী চাকমা এবং কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হানা শামস আহমেদ।
খবরওয়ালা/এন