খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রংপুরের বদরগঞ্জে কথিত ‘মানিক বাহিনী’র হামলায় আহত শফিকুল ইসলাম (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্রায় ৩ মাস ২০ দিন পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শফিকুল বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল বদরগঞ্জ বাজারে একটি দোকানঘর দখল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় শফিকুল ইসলাম ও বিএনপির মধুপুর ইউনিয়নের সমাজকল্যাণ সম্পাদক লাভলু মিয়া আহত হন। ওই দিনই মারা যান লাভলু মিয়া। হামলার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক ওরফে মানিকের নেতৃত্বাধীন ‘মানিক বাহিনী’কে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।
নিহত শফিকুলের ভাই শফিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা বিএনপির সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকারের অনুসারী। ৪ এপ্রিল মানিক চেয়ারম্যানের ছেলে তানভীর আহম্মেদ ওরফে তমাল ফেসবুকে মোহাম্মদ আলী সরকারকে নিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট দেন। পরদিন, ৫ এপ্রিল, শফিকুল বিষয়টি জানতে বদরগঞ্জে আসেন। দুপুরে বাজারের এক দোকানে লাভলু মিয়ার সঙ্গে পান খাওয়ার সময় শহিদুল হক মানিক, তাঁর ছেলে তানভীর, ফিরোজ ওরফে ‘মার্ডার ফিরোজ’সহ আরও কয়েকজন তাঁদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন শফিয়ার।
ঘটনার পর বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর (বর্তমানে বহিষ্কৃত) বলেন, ‘দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে দুইজনকে কুপিয়ে একজনকে ঘটনাস্থলে, আরেকজনকে হাসপাতালে হত্যা করা হয়েছে। অথচ আসামিরা জামিনে মুক্ত।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে খুনিরা জামিন পেল?’ খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল হক মানিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে ২৮ মে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ওই হামলার ঘটনায় তিনি জড়িত নন। ‘আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে,’ বলেন তিনি।
এদিকে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় আগেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। শফিকুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ