খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
সারাদেশে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ২৬ জুলাই কিশোরগঞ্জ শহরে সমাবেশ করেছে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে এই সমাবেশ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সমাবেশে প্রত্যাশিত জনসমাগম না হওয়ায় পাশের একটি মাদ্রাসা থেকে ভাড়া করে লোক আনা হয়েছে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, সমাবেশে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ ব্যক্তিই টুপি পরা, মাদ্রাসাশিক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট পোশাকে থাকা কিশোর—যা লোক ভাড়ার অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে বলে মত দিয়েছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করায় ব্যাপক জনদুর্ভোগের অভিযোগও উঠেছে।
সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় শহরের ‘পুরান থানা’ মোড়ে, যেটি কিশোরগঞ্জের প্রধান তিনটি সড়কের সংযোগস্থল। গাছতলায় আয়োজিত এ সমাবেশের কারণে শহরের যোগাযোগ কার্যত সারাদিন অচল হয়ে পড়ে। এই মোড় দিয়েই শহরের প্রধান পাইকারি বাজার, সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে যেতে হয়। ফলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
শহরে গুরুদয়াল কলেজ মাঠ, খান কলেজ মাঠ এবং দুটি বড় স্টেডিয়ামসহ বহু খোলা জায়গা থাকা সত্ত্বেও জনগণের চলাচলের মুখ্য সড়কে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিকরা।
তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে লোকসমাগমের অভাব নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, শেষ বিকাল পর্যন্ত আশানুরূপ লোক না আসায়, পাশের জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে লোকজন ভাড়া করে আনা হয়। অনেকে দাবি করেছেন, এ ঘটনায় মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরও ব্যবহার করা হয়েছে, যা অনৈতিক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “বাজারে ঢোকার প্রধান রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করা হয়েছিল। এতে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরো শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। শহরে এত মাঠ থাকতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কেন সমাবেশ করতে হলো, বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দলের এমন কেন্দ্রীয় স্থানে জনজীবন অচল করে সমাবেশ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। কারও কারও ধারণা, নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জোরালোভাবে দেখাতে ইচ্ছাকৃতভাবেই শহরের কেন্দ্রস্থলে এ কর্মসূচি নিয়েছে এনসিপি।
নাগরিক সমাজের একাংশ স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, এমন একটি স্পর্শকাতর ও ব্যস্ততম সড়কে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া একেবারেই অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী।
খবরওয়ালা/ এমএজেড