খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রেমের টানে চীনের সাংহাই শহর থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন সিতিয়ান জিং (২৬) নামের এক যুবক। ভালোবাসার মানুষ সুমাইয়া আক্তারকে বিয়ে করে এখন তিনি মাদারীপুরে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিনদেশি এই জামাইকে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন এলাকার উৎসুক জনতা।
জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের উত্তর মহিষেরচর এলাকার সাইদুল মুন্সি ও ইয়াসমিন বেগম দম্পতির মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৯) সরকারি সুফিয়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। অন্যদিকে সিতিয়ান জিং চীনের সাংহাই শহরের বাসিন্দা। সেখানেই তাঁর রেস্টুরেন্ট ব্যবসা রয়েছে।
প্রেমের সূত্রপাত টিকটক থেকেই। সুমাইয়া জানান, ‘টিকটক দেখে আমি ওর ভক্ত হই। এরপর ইউটার্চের মাধ্যমে আমাদের কথা বলা শুরু হয়। কথা বলতে বলতে আমরা একে অন্যের প্রেমে পড়ে যাই।’
চার মাস প্রেমের পর ২৪ জুলাই চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন সিতিয়ান। ঢাকায় পৌঁছানোর পর ২৬ জুলাই মাদারীপুরে সুমাইয়ার বাড়িতে আসেন তিনি। এরপর ২৭ জুলাই বিয়ে করেন তারা।
সুমাইয়া আরও বলেন, ‘ও প্লেনে ওঠার সময় বলেছে, আমি বাংলাদেশে আসতেছি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করিনি। যখন ইন্ডিয়া এসে আমাকে জানায়, তখন বিশ্বাস করেছি। ওর মা-বাবা মুসলিম। ওর মা বলেছেন, আমাকে বিয়ে করে চীনে নিয়ে যেতে। তাই সিতিয়ান বাংলাদেশে এসে আমাকে বিয়ে করেছে। এখন ও এক মাস থাকবে। এরমধ্যে আমার কাগজপত্র রেডি হবে। তারপর ও আমাকে চীনে নিয়ে যাবে।’
ভাষাগত জটিলতা কাটাতে মোবাইল অনুবাদের মাধ্যমে কথা বলছেন নবদম্পতি। সিতিয়ান বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার ভালো লেগেছে। তবে অনেক গরম। আর অনেক মানুষ আমাকে দেখতে আসে, তাই আমার ভয় লাগে। আমি ভালোবেসে চীন থেকে এখানে এসেছি। সুমাইয়াকে বিয়ে করেছি। এখন ওর কাগজপত্র রেডি করে চীনে নিয়ে যাব। আমার পরিবার সব জানে। তারাই সুমাইয়াকে চীনে নিয়ে যেতে বলেছে।’
সুমাইয়ার বাবা সাইদুল মুন্সি বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে চীনের নাগরিক সিতিয়ান জিংয়ের মোবাইলে প্রেম হয়। এরপর সে বাংলাদেশে এসে আমার মেয়েকে বিয়ে করে। এখন সে আমাদের এখানেই আছে। ও খুব ভালো, অমায়িক এবং বিনয়ী। এতে আমরা খুব খুশি।’
এই ব্যতিক্রমী ঘটনায় উৎসাহিত হয়ে আশপাশের মানুষজন সুমাইয়ার বাড়িতে ভিড় করছেন। প্রতিবেশী আশিক গৌড়া বলেন, ‘চীন দেশের এক নাগরিক এসে আমার প্রতিবেশী বোনকে বিয়ে করেছেন, এতে আমরা খুব খুশি।’
প্রতিবেশী জুলেখা বেগম বলেন, ‘সুমাইয়াকে ভালোবেসে ওই ছেলে চীন থেকে এসেছেন। বাংলা বলতে পারেন না, তবুও হেসে হেসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। ছেলেটি ভালো বলেই মনে হচ্ছে।’
শিশু হাসান বলে, ‘এটা তো এখন চায়না বাড়ি হয়ে গেছে।’
পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘প্রথমে কোর্টে বিয়ে হয়, পরে সামাজিকভাবেও তারা বিয়ে করেন। শুনেছি, ছেলেটির চীনে ব্যবসা আছে এবং কিছুদিনের মধ্যে সুমাইয়াকে চীনে নিয়ে যাবেন।’
এই প্রেম ও বিবাহের ঘটনা মাদারীপুরে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ভিন্ন সংস্কৃতির এই মিলন ভালোবাসার শক্তির দৃষ্টান্ত।
খবরওয়ালা/এসআই