খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় খেলার সময় বাড়ির টিনে বল পড়ায় তৃতীয় শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে গরু বাঁধার দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক স্কুলশিক্ষকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। জানা গেছে, এদের একজন বাকপ্রতিবন্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৮ জুলাই) বলরামপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীধার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত শিক্ষিকার স্বামী প্রীতম চন্দ্র বর্মণ (কালিদাস) স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
স্কুলের টিফিন চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী মাঠে ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে বলটি পাশের বাড়ির টিনের বেড়ায় লাগলে শিক্ষিক কালিদাসের স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে যান। এরপর তিনি ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী চয়ন ও বাকপ্রতিবন্ধী মাসুমকে ধরে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি স্কুলের এক শিক্ষক উপস্থিত হলেও তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়নি।
পরে শিক্ষার্থীদের মা–বাবা এলে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা ও আটোয়ারী থানা পুলিশ। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত নারী জনসম্মুখে ক্ষমা চান। তবে অপর পক্ষ বিচার দাবি করায় বিষয়টি অনিষ্পন্ন অবস্থায় থেকে যায়।
ভুক্তভোগী ছাত্র চয়ন জানায়, ‘আমরা টিফিনে ফুটবল খেলছিলাম। খেলার সময় বল টিনের বেড়ায় পড়ে। আমি আর মাসুম ওই পাশে ছিলাম। তখন উনি এসে আমাদের ধরে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন।’
অভিযুক্ত নারী নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং বাচ্চাদের অতিরিক্ত চিৎকারে বিরক্ত হয়ে শুধু ভয় দেখিয়েছেন, দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেননি। তবে শিক্ষা কর্মকর্তারা গিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানান।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মানিক চৌধুরী বলেন, “ঘটনার সত্যতা আমরা现场ে পেয়েছি। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা হয়েছিল এবং অভিযুক্ত নারী ক্ষমাও চেয়েছেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত হবে, বিশেষ করে বিদ্যালয়ের গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক ঘটনা। আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাইলেও বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মীমাংসা হয়নি।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন আচরণের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
খবরওয়ালা/এমএজেড