খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট ২০২৫
নিবন্ধন জট, রয়্যালটির চাপ ও কাঁচামাল উৎপাদনে স্থবিরতা—তিন দিক থেকেই সংকটে পড়েছে দেশের ওষুধ শিল্প।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার আগে এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ।
শনিবার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের যৌথ মতবিনিময় সভায় এসব উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা। সভায় উপস্থিত ছিলেন ডেল্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব ডা. মো. জাকির হোসেন, ইউনিমেড ইউনিহেলথের চেয়ারম্যান এম মোসাদ্দেক হোসেন, রেনাটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ কায়সার কবিরসহ অনেকে।
সভায় জানানো হয়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে প্রায় এক হাজার নতুন ওষুধের নিবন্ধন দুই বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। এসব ওষুধ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের আগেই নিবন্ধন না পেলে উচ্চ হারে রয়্যালটি দিয়ে বাজারে আনতে হবে, ফলে ওষুধের দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটাবে, তখন ট্রিপস চুক্তি অনুযায়ী ওষুধ পণ্যে পেটেন্ট মেনে চলতে হবে। এতে খরচ বাড়বে বহুগুণ।”
রেনাটার এমডি সৈয়দ কায়সার কবির বলেন, “এটি শুধু ওষুধ শিল্পের জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই চাপ তৈরি করবে। এলডিসির সুবিধা হারালে আমরা স্বল্প সুদের ঋণ পাব না, ওষুধে পেটেন্ট সুবিধা থাকবে না, প্রতিযোগিতাও কমবে।”
সভায় বক্তারা এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, কম্বোডিয়া ও সেনেগালের মতো দেশগুলো সময় নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছে। বাংলাদেশও সেই সুযোগ নিতে পারে।
ওষুধ শিল্পে স্থবিরতার আরেক বড় কারণ হচ্ছে এপিআই পার্ক। দেশের কাঁচামাল উৎপাদনে গঠিত এই পার্ক গত ১৫ বছরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পায়নি। মুন্সীগঞ্জের বাউসিয়ায় ২০০৮ সালে স্থাপিত এই পার্কে জমি বরাদ্দ পেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে পেরেছে।
ডা. জাকির হোসেন বলেন, “চীন ও ভারতের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এসে জানিয়েছে, প্লট ছোট, রিঅ্যাক্টর বা স্টোরেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা—গ্যাস সরবরাহ নেই। এসব কারণে কম্পানিগুলো পিছিয়ে গেছে।”
তবে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালা সংশোধন ও সমন্বয়ের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ১০–১২টি কোম্পানি উৎপাদনে যেতে পারবে।
এছাড়া, জাতীয় পর্যায়ে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরি ও তা সহজলভ্য করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওষুধের দাম ও প্রাপ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এখনই দরকার সমন্বিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।
খবরওয়ালা/আশ