খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৮ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) হত্যার খবরে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন তার বৃদ্ধ বাবা মো. হাসান জামাল। ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের তুহিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবার আর্তি, ‘কী অপরাধ করেছিল আমার ছেলে? কী অন্যায় করেছিল সে? আমি কারো ক্ষতি চাই না, তোমরা আমার ছেলেটাকে এনে দাও।’
হাসান জামাল বলেন, ‘গত পরশু ওষুধ কেনার জন্য তুহিন আমাকে এক হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। এখন কে আমাকে টাকা পাঠাবে? কেন ছেলেটাকে এমনভাবে মেরে ফেলল ওরা?’
ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ভাটিপাড়ার বাবার বাড়িতে ছুটে আসেন বড় বোন রত্না বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাই আমার কোলে বড় হয়েছে। সে কারো ক্ষতি করেনি। তাহলে কেন তাকে মেরে ফেলল?’
তুহিনের মা সাহাবিয়া খাতুন বকুল বলেন, ‘গত পরশু মোবাইলে কল করে তুহিন আমার দুই নাতির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। আমার বাবারে কারা মারল? কী দোষ ছিল তার?’
তুহিনের ভাবি নূরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘যারা ওকে মেরেছে, তাদের ফাঁসি চাই। তারা মানুষ না, অমানুষ।’
ভাগ্নে আবু রায়হান বলেন, ‘মামা ব্যবসার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে সাংবাদিকতা করতেন। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। তার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তুহিন লেখাপড়া শেষে গাজীপুর চৌরাস্তায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। ২০০৯ সালে বড় ভাই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে সেখানেই থাকতে থাকেন তিনি। তার আরেক ভাই সেলিম পরিবহন শ্রমিকের কাজ করেন, অপর ভাই জাহাঙ্গীর থাকেন টেকনাফে এবং শাজাহান মিয়া সিলেটে। দুই বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় গ্রামের বাড়িতে এখন কেবল বৃদ্ধ বাবা-মা থাকেন। তাদের দেখভাল করতেন ছেলেরা।
তুহিনের মরদেহ বর্তমানে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় রয়েছে। বাদ জুমা সেখানে প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। পরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
খবরওয়ালা/এন