খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে আলম খাঁর কান্দি জামে মসজিদের দ্বিতল ভবন সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে নাওডোবা ইউনিয়নের জিরোপয়েন্ট এলাকায় এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী নুরউদ্দিন মাঝি জানান, “সকালে খবর পাই মসজিদে ফাটল ধরেছে। আমরা দ্রুত নদীর পাড়ে যাই। কিছুক্ষণ পরই প্রচণ্ড শব্দে মসজিদটি নদীতে ভেঙে পড়ে। আমরা সবাই আতঙ্কে আছি। অনেকের ঘরবাড়ি গেছে, বাকিগুলোও যাবে হয়তো।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নভেম্বর থেকে জিরোপয়েন্ট এলাকায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের রক্ষাবাঁধ ভাঙতে শুরু করে। বিভিন্ন সময়ের ভাঙনে অন্তত ৭৫০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। এতে আলম খাঁর কান্দি, ওছিম উদ্দিন মাদবরকান্দি, উকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি এবং মাঝিরঘাট এলাকার প্রায় ৩০টি দোকান ও ৫০টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়। ভাঙনের আশঙ্কায় শতাধিক ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে অন্তত ৬০০ পরিবার ও মাঝিরঘাট বাজারের ২০০টির বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেললেও তা কার্যকর হচ্ছে না। এ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে, যার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। কিন্তু সেগুলোও ভাঙনের মুখে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় আফজাল হোসেন বলেন, “জিওব্যাগ দিয়েও কিছু হচ্ছে না। খুব দ্রুত স্থায়ী টেকসই বাঁধ না হলে এলাকা রক্ষা সম্ভব নয়।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ তারেক হাসান জানান, “আমরা আপদকালীন ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙন পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন মিললে কাজ শুরু হবে।”
খবরওয়ালা/টিএসএন