খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ২০২৫
গাজীপুরের শ্রীপুরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লামিয়া আক্তার (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লামিয়া আক্তার উপজেলার নান্দিয়াসাঙ্গুন গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি লামিয়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী এলাকার ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ কলেজে থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। পরে টঙ্গী থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চার সদস্যের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থল পৌঁছে দুপুর ২টা থেকে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে ত্রিমোহনী সেতু থেকে এক তরুণী নদীতে ঝাঁপ দেন। ঝাঁপ দেওয়ার পর ওই তরুণীকে সামান্য দূরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিক স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন উদ্ধারের জন্য নদীতে নামলেও মেয়েটি তলিয়ে যান।
এদিকে লামিয়া আক্তারের বাবা দেলোয়ার হোসেন জানান, সকাল থেকে তার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তিনি ত্রিমোহনী সেতু এলাকায় গিয়ে এ ঘটনা জানতে পারেন। পরে সেতুতে পড়ে থাকা জুতা জোড়া দেখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ওই তরুণীই তার মেয়ে বলে নিশ্চিত হন তিনি।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সে (লামিয়া) কেন নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে আমরা এখনো কিছুই জানি না।’
লামিয়া আক্তারের কয়েকজন সহপাঠী জানায়, নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার আগে লামিয়া তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে লেখেন, ‘এ পৃথিবীর প্রতি হাজারটা অভিযোগ রেখে গেলাম।
এই পৃথিবীর প্রতি আকাশ পরিমাণ অভিমান রেখে গেলাম। এই পৃথিবী আমাকে দেয়নি ভালো থাকতে। এই পৃথিবীর মানুষ আপন মানুষ নিষ্ঠুর চেহারা, নিষ্ঠুর ব্যবহার, নিষ্ঠুর চলাচল যা আমাকে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার শক্তিটুকু দেয়নি। যাদের ভেবেছি আপন তারাই মারে ছুরি। …’
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ টঙ্গী থেকে আসা চার সদস্যের একটি ডুবরি দল দুপুর ২টা থেকে টানা চেষ্টা চালিয়ে এখন পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা) মরদেহ খুঁজে পায়নি।’
খবরওয়ালা/এমইউ