খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৫
বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক আব্দুন নূর তুষার প্রশ্ন তুলেছেন আসিফ মাহমুদ সজীবকে ঘিরে। তিনি জানতে চেয়েছেন, আসিফ মাহমুদ সজীব কার সঙ্গে হাঁসের মাংস খেতে নীল মার্কেট বা ওয়েস্টিনে যান এবং সেসব আসরে কারা থাকেন।
সম্প্রতি এক টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন,
‘আসিফ মাহমুদ সজীব ভাইয়া যে বলেছেন উনি ওয়েস্টিনে যান, উনি কি ওয়েস্টনে গিয়ে একা একা গিয়ে বসে থাকেন? ছবি খোঁজেন, তাহলে দেখবেন উনি একা ওখানে বসে থাকেন না। নীলা মার্কেটে নিশ্চয় উনি একা একা গিয়ে হাঁসের মাংস খোঁজেন না। তার সঙ্গে কারা থাকে? তারা কোন দলের নেতা কিংবা কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি কিংবা কারা সেই সময় তার সঙ্গে থাকে? ফলে এই জিনিসগুলি মানুষ প্রশ্ন করবে।’
তুষার আরও বলেন, ‘আপনি এইসব বলতে পারছেন মানুষ তো প্রশ্ন করবেই। আপনি সব বন্ধ করে দিলেও মানুষের মনের মধ্যে প্রশ্ন থাকবে। কেননা মানুষ তো আর নির্বোধ না। দায়িত্বশীল বক্তব্য আমরা সবসময় পাই না সবার কাছ থেকেও পাই না। বক্তব্য প্রদান করার বিষয়টিও প্রশিক্ষণ ও শেখার অংশ।’
এসময় এনসিপি-কে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন দলটি বিতর্কিত উপদেষ্টাকে ডিফেন্ড করছে। তার ভাষায়,
‘এনসিপি কি কারণে এই উপদেশটাকে প্রটেক্ট করতে গেল কিংবা উপদেশটাকে ডিফেন্ড করতে গেল? যেখানে তারা বলেছে যেই সরকারের মধ্যে তাদের নিজেদের কোন লোক নাই। তাহলে যদি নিজেদের লোক নাই থাকে, এই একই এনসিপির একজন নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ একজন উপদেষ্টাকে বলেছেন বেতন ভাতা ফেরত দিয়ে তাকে চলে যেতে হবে। তিনি হচ্ছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা—তারা স্বাস্থ্য উপদেশকে ডিফেন্ড করে নাই। আর আরেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরে তারা ধরা পড়া চাঁদাবাজের স্ত্রীকে জোগাড় করে নিয়ে এসেছেন প্রমাণ করার জন্য যে বউ জানে স্বামী ভালো। এইটা তো আসলে ঠিক না।’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে আব্দুন নূর তুষার বলেন, ‘বাংলাদেশ তো ডি মুসলিম লিগিফিকেশন হয়েছে তাই না? মুসলিম লীগ তো নাই। এটা কিভাবে হয়েছে? এখানে কি এই বাঙালিরাই মুসলিম লীগ করে পাকিস্তান চেয়েছিল না? কিন্তু অতি দ্রুত তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে এটা তো হয় নাই। এবং নামের শেষে লীগ থাকার পরেও আওয়ামী লীগ জনপ্রিয় হয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এর কারণ হচ্ছে ভোটার যতক্ষণ পর্যন্ত তার মন তুলে না নেবে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি একটা দলকে একেবারে নিশ্চিহ্ন করতে পারবেন না। যেমন এখনো পর্যন্ত ছোট ছোট ক্ষুদ্র দল টিকে আছে—উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গে। যারা কমিউনিজম চায়, সশস্ত্র কমিউনিজমের উপর বিশ্বাস করে। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মন থেকে আপনি এই সমর্থনকে ঘুরাতে না পারবেন ততক্ষণ পর্যন্ত কোথাও না কোথাও এই দল বা দলীয় কর্মীরা থেকে যাবে।’
খবরওয়ালা/এসআই