খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট ২০২৫
এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিবন্ধিত সিম কার্ডেই ভাতা গ্রহণ করতে হবে। শুধু নগদ বা বিকাশ নয়, আর্থিক সেবা দেওয়া যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ভাতার টাকা তোলা যাবে।
আগে শুধুমাত্র নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে সরকার থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে (জিটুপি) ভাতা বিতরণ করা হতো। তবে জুলাই মাস থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। লক্ষ্য হলো পরিবারের অন্য কেউ যেন ভাতাভোগীর টাকা তুলতে না পারেন।
আগে আবেদনপত্রে পরিবারের যে কারও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যেত। বিশেষ করে বয়স্ক দরিদ্ররা নিজের মোবাইল ব্যবহার না করায় নাতি-নাতনি বা অন্য সদস্যদের নম্বর দিতেন। এতে অনেকে টাকা তুললেও ভাতাভোগীকে জানাতেন না। নতুন ব্যবস্থায় এ সমস্যা আর থাকবে না বলে জানায় অধিদপ্তর।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, ভাতাভোগীকে অবশ্যই নিজের এনআইডির বিপরীতে সিম নিবন্ধন করতে হবে। সেই নম্বরেই ভাতার টাকা যাবে। আগে তালিকাভুক্তদেরও ধীরে ধীরে নিবন্ধিত সিম নিতে হবে। তবে যাদের আঙুলের ছাপ না মেলায় সিম নিবন্ধনে সমস্যা হয়, তাদের জন্য পরিস্থিতি অনুযায়ী ছাড় দেওয়া হবে। একেবারেই যারা মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন না, তাদের আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করবে স্থানীয় সমাজসেবা অফিস।
সমাজসেবা অধিদপ্তর বর্তমানে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, বেদে জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, চা জনগোষ্ঠী ও অনগ্রসর ভাতা প্রদান করে। সারা দেশে এসব ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ২৮ লাখ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ১৫ এপ্রিল জারি করা পরিপত্রে জানিয়েছিল, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা বিতরণে উপকারভোগী নিজে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক (এজেন্ট ব্যাংক) বেছে নেবেন। কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থা নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে না। এর ভিত্তিতেই জুলাই থেকে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
গত পাঁচ বছর ধরে নগদ ৭৫ শতাংশ এলাকায় ও বিকাশ ২৫ শতাংশ এলাকায় ভাতা দিত। তবে তাদের সঙ্গে করা পাঁচ বছরের চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। এখন ভাতাভোগীরা নিজেদের সুবিধামতো প্রতিষ্ঠান বেছে নিচ্ছেন। অনেকেই আগের অ্যাপ পরিবর্তন করেছেন।
তবে অনিয়মের ঘটনাও রয়েছে। যেমন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বেহুলা বেগম আবেদন করার দেড় বছর পর তালিকাভুক্ত হলেও ভাতা পাননি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার দেওয়া নম্বরের বদলে স্থানীয় এক নারী ইউপি সদস্যের মৃত স্বামীর মোবাইল নম্বরে টাকা যাচ্ছিল। অভিযোগের পর স্থানীয় সমাজসেবা অফিস ব্যবস্থা নেয়।
এ বিষয়ে পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন