খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
হোয়াইট হাউসে ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনার সময় নিজেকে ‘প্রধান শান্তিদূত’ হিসেবে তুলে ধরতে গিয়ে দুটি বড় দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি নয় বরং স্থায়ী শান্তিচুক্তি চান এবং চলতি বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যে ছয়টি যুদ্ধ থামিয়েছেন।
তবে ইউক্রেনে শান্তিচুক্তি এগিয়ে নিতে গিয়ে ট্রাম্প এতটাই দ্রুত এগোচ্ছেন যে মাঝে মাঝে সত্য থেকে সরে যাচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তারা ইসরায়েল–ইরান, কঙ্গো–রুয়ান্ডা, কম্বোডিয়া–থাইল্যান্ড, ভারত–পাকিস্তান, সার্বিয়া–কসোভো এবং মিসর–ইথিওপিয়ার মধ্যে সংঘাত মীমাংসায় ভূমিকা রেখেছে। তবে এসব দাবি অতিরঞ্জিত—কিছু ক্ষেত্রে পুরোপুরি সত্যও নয়। কঙ্গোতে সহিংসতা চলছে, রুয়ান্ডা-সমর্থিত বিদ্রোহীরা দোহায় আলোচনার সময়সীমা মানেনি।
ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ইরানের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির চাপ দিয়েছে। ভারত–পাকিস্তানের সংঘাত থামাতে ট্রাম্পের ভূমিকা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। মিসর ও ইথিওপিয়া নীলনদের বাঁধ ইস্যুতে সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। সার্বিয়ার মতে, কসোভোর সঙ্গে যুদ্ধের কোনো পরিকল্পনাই তাদের ছিল না—তবুও ট্রাম্প কৃতিত্ব দাবি করেন।
ট্রাম্প আগে বহুবার বলেছেন যে সংঘাতের সমাধানে যুদ্ধবিরতি চান। কিন্তু এখন তিনি ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াতে সুর পাল্টাচ্ছেন। আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন—তিনি আর যুদ্ধবিরতি চান না।
পুতিনের শর্ত, যুদ্ধবিরতির আগে ইউক্রেনকে দেশের দক্ষিণ–পূর্ব অংশের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করতে হবে। কিয়েভ এর বিপক্ষে, তারা আগে যুদ্ধবিরতি চায়।
ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “চলতি বছরে আমি যে ছয়টি চুক্তি করেছি, সব কটি যুদ্ধ চলমান অবস্থাতেই হয়েছিল। আমি কোনো যুদ্ধবিরতি করিনি। আমার মনে হয়, আপনার কোনো যুদ্ধবিরতির দরকার নেই।”
কিন্তু এর আগের বক্তব্যে ট্রাম্প ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। গত ১০ মে তিনি ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২৬ জুলাই থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। ইসরায়েল–ইরান ইস্যুতেও তিনি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির কথা বলেছিলেন।
মার্কিন টিভি চ্যানেল এমএসএনবিসি ট্রাম্পের এসব আগের বক্তব্য একত্র করে প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সাফল্য দেখাতে গিয়ে ট্রাম্প নিজেই আগের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছেন এবং এখন পুতিনের সমর্থিত পরিকল্পনার পথে হাঁটছেন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে—সংঘাত থামানোর কাজটি তাঁর ধারণার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।
খবরওয়ালা/এন