খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 8শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক দরিদ্র কৃষকের গাভীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমবারের মতো গরুর ময়নাতদন্ত হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে জেলায় চলছে ব্যাপক আলোচনা।
উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের দোবিলা গ্রামের দিনমজুর মো. সোহেল রানা (৪৩) জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল একটি দুধেল গাভী। সেই গাভীটিই শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। গর্ভবতী গাভীটির মৃত্যুর ফলে ভবিষ্যতের বাছুরসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।
সোহেল রানা অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা তার লাগানো নেপিয়ার ঘাসে ঘাসমারা ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। সেই ঘাস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে গাভীটি। তিনদিন চিকিৎসার পর মারা যায় প্রাণীটি। এ ঘটনায় তিনি বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে আজিজ মন্ডলের স্ত্রী মেহেরুন্নেসা, মোহাইমিনুল হক মিঠু ও লুৎফর আলীর।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু হায়দার জানান, গাভীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে জানা যাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ।
অভিযুক্তদের মধ্যে মেহেরুন্নেসা নিজেকে জেলা জজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ এসেছিল আপনারা পুলিশের কাছ থেকে জেনে নেন ঘটনা কি। আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না। এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোহাই মিনুল হক মিঠুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া মেলেনি।
আরেক অভিযুক্ত লুৎফর আলী বলেন, ‘জমির মালিক মেহেরুন্নেসা আমার বিয়াইন। তিনি আমাকে বলেন কাজের লোক ঠিক করে দিতে জমিতে ঘাসমারা বিষ দেয়ার জন্য। পরে আমি লোক ঠিক করি এবং তারা গিয়ে জমিতে বিষ দিয়েছে। আমি এতটুকুই জানি।’
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সোহেল রানা বলেন, আমি তো একেবারে গরিব মানুষ। সংসারে আয়ের ভরসা ছিল এই গাভীটিই। এখন একেবারে পথে বসে গেছি। শুধু চাই, অন্যায়ের সঠিক বিচার যেন পাই।
জামনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘জমিতে বিষ প্রয়োগ করায় এবং সেই জমির ঘাস খেয়ে গরুটি মারা গেছে। সোহেল খুব দরিদ্র মানুষ। গরুটি মারা যাওয়ায় সে বড় ক্ষতির শিকার হলো।’
আইনজীবীরা বলছেন, ‘প্রাণিসম্পদ বিভাগের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আদালতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কারও দায় নির্ধারণ করা যাবে না।’
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
খবরওয়ালা/এসআর